নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম ;
বাণিজ্যিক গ্যাসের পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন তারাপীঠের হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে বাড়ছে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অনেক হোটেলকেই সাময়িকভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হোটেল মালিকরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রান্নার কাজে বড়সড় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় চাপ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের উপর। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক হোটেল ও খাবারের দোকানে এখন বিকল্প হিসেবে কাঠের উনুনে রান্না করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে কেন্দ্র সরকারের প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মহিলাদের বিনামূল্যে এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল কাঠের উনুনের বদলে ধোঁয়াহীন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং মহিলাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো। কিন্তু বর্তমানে রান্নার গ্যাসের দাম এক লাফে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকদেরও চাপে পড়তে হচ্ছে।
বর্তমানে রামপুরহাট এলাকায় ১৪ লিটারের সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭০ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ২০২৫ টাকা। গ্যাসের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির মধ্যেও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
তবে সমস্যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে তারাপীঠের ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্রিক কার্যকলাপের উপর। প্রতিদিনই হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটক মা তারার দর্শনের জন্য তারাপীঠে আসেন। পাশাপাশি বহু ভক্ত এখানে শত শত মানুষের জন্য ‘ভান্ডারা’ বা প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করেন।
এই প্রসঙ্গে তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখপাধ্যায় জানান, “যারা সাধারণ মানুষের জন্য ভান্ডারা খাওয়ানোর আয়োজন করেন, তারা দু-তিন মাস আগেই মন্দিরে সেই দিন বুক করেন। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের এই সমস্যার কারণে অনেক রাঁধুনি ও ক্যাটারার সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, এই পরিস্থিতিতে রান্না করা সম্ভব নয়।”
ফলে গ্যাস সরবরাহের সঙ্কট সমাধান না হলে তারাপীঠের হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা থেকে শুরু করে ধর্মীয় আয়োজন, সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
