ওঙ্কার ডেস্ক: আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের নয়া উপমুখমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে এক চা-চক্র অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গরুকে ঘিরে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, গরুকে আদর করলে মানুষের রক্তচাপ কমতে পারে। তাঁর কথায়, গরুর গলকম্বল বা পিঠের কুঁজে হাত বোলালে দ্রুত ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত গরুর সংস্পর্শে থাকলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মন্ত্রী দাবি করেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে গরুর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং বহু মানুষ গরুর কাছাকাছি থাকলে মানসিক শান্তি অনুভব করেন। তাঁর মতে, গ্রামবাংলার বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই গরুর সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন এবং এর ইতিবাচক প্রভাব তাঁদের জীবনে দেখা যায়। তবে এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিরোধীরা কড়া সমালোচনা শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিযোগ, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বশীল পদে থাকা কোনও ব্যক্তির করা উচিত নয়। তাঁদের মতে, জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণার ভিত্তিতেই মন্তব্য করা প্রয়োজন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও গরুকে কেন্দ্র করে একাধিক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন দিলীপ ঘোষ। ২০১৯ সালে তিনি দাবি করেছিলেন, দেশি গরুর দুধে সোনা থাকে। সেই মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতির সময় গোমূত্রের উপকারিতা নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেইসব বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার মন্ত্রী হওয়ার পর ফের গরুকে কেন্দ্র করে তাঁর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের জন্ম দিল। বিজেপির একাংশ অবশ্য দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকে ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখার পক্ষে সওয়াল করেছে। তবে বিরোধীরা এটিকে “অবৈজ্ঞানিক” বলেই কটাক্ষ করেছে।