ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে ১২ ঘণ্টার ওষুধের দোকান ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার চাঞ্চল্য ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস-এর ডাকে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত অনলাইন মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধ বিক্রি, অতিরিক্ত ছাড়ে ওষুধ সরবরাহ এবং ই-ফার্মাসির বাড়বাড়ন্তের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছে সংগঠন। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বহু রাজ্যে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে সরকারি ওষুধের দোকান যেমন হাসপাতাল চত্বরে থাকা ন্যায্য মূল্যের দোকান গুলি খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের চালু করা ‘দাবা দোস্ত’ এবং প্রধানমন্ত্রী জনৌষধী কেন্দ্র গুলি থেকে ওষুধ কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
ওষুধ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে যথাযথ নিয়ম না মেনে ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক, ঘুমের ওষুধ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতাদের হাতে। এর ফলে ওষুধের অপব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনই রোগীদের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে দাবি সংগঠনের। পাশাপাশি বড় ই-ফার্মাসি সংস্থাগুলির বিপুল ছাড়ের জেরে ছোট ও মাঝারি ওষুধ ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস-এর তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের কাছে ই-ফার্মাসি নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, অনলাইন ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োগ না হলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই এই ধর্মঘটের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ধর্মঘটের জেরে যাতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় না পড়েন, সেই বিষয়েও কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে থাকা ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপ, প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধি কেন্দ্র এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ওষুধের দোকানগুলি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে জরুরি রোগী বা জীবনদায়ী ওষুধের প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণভাবে পরিষেবা বন্ধ থাকবে না বলেই জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের একাধিক রাজ্যের ওষুধ ব্যবসায়ী সংগঠন এই ধর্মঘটে সম্পূর্ণ সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে অনেক দোকান খোলা রাখার পক্ষেই মত দেওয়া হয়েছে। সংগঠনগুলির একাংশের বক্তব্য, রোগীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ সময় ওষুধের দোকান বন্ধ রাখা ঠিক হবে না। বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা রোগীদের নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন হয়। তাই মানবিক কারণেই অনেক জায়গায় আংশিক পরিষেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে জরুরি ওষুধ পরিষেবায় বড় কোনও সমস্যা হবে না। একইসঙ্গে ই-ফার্মাসি সংক্রান্ত অভিযোগ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।