ওঙ্কার ডেস্ক: ফের বাংলাদেশে বাড়তে শুরু করেছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা। জানা গিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘর্ষ ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। ফলে সংঘাতপূর্ণ ওই অঞ্চলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও ওষুধসংকট। এমন অবস্থায় রোহিঙ্গা কমিনিউটি নেতা আনিস মোস্তাফা বলেন, ‘রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মি দুই পক্ষই আগ্রাসন চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্য এবং ওষুধসংকট। এ অবস্থা চলতে থাকলে রাখাইনে মানবিক পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে।’ জানা যায়, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে গত বছর থেকে শুরু হয়েছে সংঘাত। অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলের বেসামরিক মানুষের জীবন হয়ে পড়েছে বিপন্ন। সংঘাত ও মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গারা, খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র অভাবে ভুগছে। যুদ্ধরত পক্ষগুলোর শিকারে পরিণত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ধ্বংস করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আরকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যকার যুদ্ধের জেরে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে আরও ১ লাখ রোহিঙ্গা। এতে গত ৬ বছরে দেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ১৩ লাখের বেশি। সংশ্লিষ্ট সুত্র অনুযায়ী জানা যায়, প্রায় ২৮ লক্ষ জনসংখ্যার কক্সবাজার জেলায় এখন অতিরিক্ত প্রায় ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গার চাপ সামলাতে হচ্ছে। মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের ফলে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী এলাকাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ হলেও সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা তার প্রায় দ্বিগুণ। তথ্যানুযায়ী, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯৯০ সাল থেকে বাস্তুচ্যুত মোট ১০ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৫৪ রোহিঙ্গাকে নিবন্ধন করেছে ইউএনএইচসিআর।