ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে তথাকথিত ‘ভূতুড়ে ভোটার’ বিতর্ক ঘিরে প্রশাসনিক অস্বস্তি আরও বাড়ল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে ব্যাখ্যা তলব করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে দিল্লিতে হাজির হয়ে তাঁকে জানাতে হয় কেন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়নি এবং কেন নির্ধারিত পদক্ষেপগুলি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়নি।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বরুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা এলাকায় ভোটার তালিকায় অবৈধ বা অযোগ্য নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। চার জন আধিকারিক দু’জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং দু’জন সহকারী ইআরও-র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা রুজু করার কথাও বলা হয়। রাজ্য সরকার তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করলেও এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে গড়িমসির অভিযোগ ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে কমিশন রাজ্য প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ চেয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এফআইআর দায়ের করে তার প্রমাণসহ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত অন্যান্য আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা, প্রয়োজন হলে বদলি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া সাধারণত নির্বাচন ঘনিয়ে এলে জোরদার করা হয়, যাতে মৃত, স্থানান্তরিত বা অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত ভোটারদের তালিকা চূড়ান্ত করা যায়। কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়াকেই কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় অনিয়ম ঘটানো হয়েছে। শাসকদল অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, প্রশাসন কমিশনের নির্দেশ মেনেই কাজ করছে।
