নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: হাতির হানায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষিরা। লাভের আশায় ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু একের পর এক হাতির হামলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আলু ক্ষেত। ফলে লাভ তো দূরের কথা, ঋণ পরিশোধ নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।
সোমবার গভীর রাতে গরুমারা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা একটি হাতি জলপাইগুড়ি জেলার দক্ষিণ ধুপঝোড়া বাংলা পাড়া এলাকায় ঢুকে পড়ে। এলাকায় ঢুকে প্রায় দুই বিঘা আলু ক্ষেতে তাণ্ডব চালায় হাতিটি। পায়ে মাড়িয়ে ও শুঁড় দিয়ে উপড়ে ফেলে আলুর গাছ। মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাপক ক্ষতি হয় চাষিদের। ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিরা জানান, রাতের অন্ধকারে আচমকা হাতিটি গ্রামে ঢুকে পড়ায় তাঁরা কিছুই করতে পারেননি। খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, ততক্ষণে ফসল নষ্ট করে হাতিটি ফের জঙ্গলে ফিরে যায়। আলু চাষি সাহেব ইসলাম ও বিলাস রায় বলেন, “বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে এবার আলু চাষ করেছি। ভাবছিলাম ভালো লাভ হবে। কিন্তু বারবার হাতির হানায় আলু ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এইভাবে চলতে থাকলে পেটে ভাতে মরতে হবে আমাদের। ঋণ শোধ করব কীভাবে বুঝতে পারছি না।”
চাষিদের অভিযোগ, এলাকায় প্রায়ই হাতির দল ঢুকে পড়ছে। ফলে রাতে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। আলু ক্ষেত রক্ষা করতে নিয়মিত বন দপ্তরের টহলদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে বনদপ্তর সূত্রে জানা যায়, “হাতি এলাকায় ঢুকলে সাধ্যমতো তাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এলাকায় হাতির উপদ্রব ক্রমেই বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা। চাষিদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এখন তাঁদের একটাই দাবি—ফসল বাঁচাতে স্থায়ী সমাধান ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ।
