ওঙ্কার ডেস্কঃ এসআইআরের কাজ নিয়ে গত শুক্রবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতির যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলির নিষ্পত্তি করবেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত আধিকারিকেরা! সেই মতো শনিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজ্যের সকল বিচারকের ছুটি বাতিল করল উচ্চ আদালত। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অসুস্থতা ছাড়া আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত কোনও বিচারক ছুটি নিতে পারবেন না। অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শনিবার এসআইআর নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
ছুটি বাতিলের তালিকায় রয়েছে, জেলা ও দায়রা বিচারক, মুখ্য বিচারক, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক, বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক, বাণিজ্যিক আদালতের বিচারক, বিশেষ আদালত, এক্সক্লুসিভ পকসো আদালত, সিটি সিভিল কোর্ট ও সিটি সেশনস কোর্টের বেঞ্চে কর্মরত বিচারক। এমনকি, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। হাই কোর্ট আরও জানিয়েছে, চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া যাঁরা ছুটিতে রয়েছেন আগামী সোমবারের মধ্যে তাঁদের কাজে যোগ দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট এ-ও জানিয়েছিল, এসআইআরের কাজে বর্তমান বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের নিয়োগ করবে হাই কোর্ট। প্রতি জেলায় কয়েকজন করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। তাঁরা ২৮ ফেব্রুয়ারি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত কাজ করবেন। আগামী ১০ মার্চ আবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুসারে তার আগের দিন পর্যন্ত সকল বিচারকের ছুটি বাতিল থাকবে।
অন্যদিকে, শনিবার বিকেলে এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। ছিলেন ডিজিপি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এবং অ্যাডভোকেট জেনারেলও। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে কমিশনের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়, প্রতি বিধানসভার জন্য এক জন করে বিচার বিভাগীয় অফিসার নিয়োগ করার কথা বলেন।
অন্যদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন এনডিপিএস, পকসো আইন এবং অন্যান্য বিশেষ আইনের ধারায় দায়ের হওয়া মামলার শুনানির জন্য বিভিন্ন জেলায় বিচারকদের দায়িত্ব দিল হাই কোর্ট। সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, আপাতত ২৫০ জন জুডিশিয়াল অফিসার দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের প্রায় ৪৫-৫০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি করতে হবে। এত কম সময়ের মধ্যে সেই কাজ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশও করেছেন তিনি।
