ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে সরকার গঠনের পর পুরো দমে নেম পড়েছে বিজেপি সরকার। অবৈধ টোল প্লাজা থেকে শুরু করে অবৈধ বিল্ডিং সব কিছুতেই নজর শুভেন্দু অধিকারির সরকারের। এবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে পুর্নাঙ্গ তদন্তের ছাড়পত্র দিল রাজ্য সরকার। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নেতা মন্ত্রী সহ সরকারি অমলা বা অফিসারদেরো তলব করার অনুমতি মিলেছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে বহু শিক্ষকেরা নিজদের কাজ খুয়েছেন, পাশাপাশি প্রত্যেকে হয়রানির শিকার হতেও হয়েছে। অন্যদিকে পুরনিয়োগ দুর্নীতিতেও তহবিলের টাকা তছরুপের ঘটনাও সামনে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষা, পুর ও নগরোন্নয়ন এবং অন্যান্য একাধিক দপ্তরে নিয়োগে অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিক ও আমলাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে তদন্ত চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি প্রদান করেছে। জানা গিয়েছে, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় বহু ক্ষেত্রে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল, কিন্তু নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে সেই সমস্ত বাধা সরিয়ে দিয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বহুদিন ধরে চলতে থাকা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, গ্রুপ-ডি ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় সিবিআই আরও সক্রিয়ভাবে তদন্ত চালাতে পারবে। এতদিন পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন ছিল, যা তদন্তকে অনেকাংশে ধীর করেছিল। এবার সেই অনুমতি মেলায় তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ, নথি সংগ্রহ, সম্পত্তির হিসাব খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে চার্জশিট পেশের মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তাঁর বক্তব্য, সরকারি চাকরি সাধারণ মানুষের অধিকার, সেখানে দুর্নীতি বা অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার মতো অপরাধ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে নিচুতলা পর্যন্ত যে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যু রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছিল। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের রক্ষাকবচ দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ দের একাংশের মতে দীর্ঘ কিছু বছর ধরে চলতে থাকা এই নিয়োগ দুর্নীতি তৃণমূল সরকারের পতনের অন্যত্তম কারণ। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুমতির ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নতুন মোড় আসতে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন তদন্তে আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি বৃদ্ধি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বহু তথ্য উঠে এসেছে। এখন প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়ায় তদন্তকারীরা আরও গভীরে গিয়ে দুর্নীতির মূল চক্রকে চিহ্নিত করার সুযোগ পাবে। চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা এবং দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপকে অনেকেই ন্যায়বিচারের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।