ওঙ্কার ডেস্ক: এবার থেকে ডিম ভাতের বদলে মাছ দেওয়া হবে মা ক্যান্টিনে। এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। এক বর্ষীয়ান বিজেপি বিধায়ক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন ডিম নয় মাছ থাকতে পারে মা ক্যান্টিনের খাবারের তালিকায়। সেই নিয়েই আবারও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস গত ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে আগে শ্রমিক এবং নিম্ন বিত্ত মানুষদের জন্য অল্প খরচায় খাবারের জন্য প্রকল্প শুরু করেছিল ‘মা ক্যান্টিন’। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘাসফুল শিবির বারবার দাবি করেছিল বিজেপি ক্ষমতায় আসলে বাঙালির মাছ খাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। তৃণমূলের এই দাবির বিরোধিতা করে একাধিক বিজেপি নেতা মন্ত্রী মাছ হাতে ভোট প্রচারে নেমেছিল। পাশাপাশি কেন্দ্রে বিভিন্ন নেতাবৃন্দ কলকাতায় এসে মাছ ভাত খেয়ে তৃণমূলের দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছিল। এমনকি বাংলায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর শপথগ্রহণের দিন বিজয়ী বিধায়কদের বিধানসভায় মাছ ভাত খেতে দেখা গেছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খোলা মা ক্যান্টিনে মাছ ভাত দেওয়া হবে। রাজ্যে তৃণমূল শাসনকালে ক্যান্টিনে ভাত, ডাল, এবং ডিমের তরকারি দেওয়া হত। বিজেপি নেতৃত্বর কথায়, “ডিম ভাতে নয়, মাছেভাতে বাঙালি”। এই মন্তব্যের জেরেই মনে করা হচ্ছে এবার থেকে মা ক্যান্টিনেও মাছভাত শুরু করা হবে। ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি জানিয়েছে তৃণমূল সরকারের কোন জনকল্যানমূলক প্রকল্প বন্ধ করবে না তারা। বরং তা সামান্য বদল করতে পারে। সূত্রের খবর অনুযায়ী ক্যান্টিনে মাছ ভাতের সঙ্গে সঙ্গে ‘মা ক্যান্টিন’-এর নাম পরিবর্তন হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চালু করা হয়েছিল ‘মা ক্যান্টিন’। গোটা রাজ্য জুড়ে প্রায় ২৫০টি ক্যান্টিন প্রচলিত ছিল। কিছু স্বয়ংক্রীয় স্বেচ্ছাসেবী দল এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল। পাশাপাশি সরকারি ভান্ডার থেকে চাল বিনামূল্যে যেত মা ক্যান্টিনে এবং ‘সুফল বাংলা’-র অধীনে অল্প খরচায় সবজি সরবরাহ হত। বঙ্গে নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষিতে সাময়িক কালের জন্য বন্ধ রয়েছে মা ক্যান্টিন। খুব শীঘ্রই তা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে তার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্যের নব নির্বাচিত শাসকদল।