ওঙ্কার ডেস্ক: নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। সোমবার নবান্নে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কর্মসূচিকে সামনে রেখে রবিবার থেকেই নবান্ন ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা পর্যালোচনায় নামে কলকাতা ও হাওড়া পুলিশ প্রশাসন। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ এবং হাওড়া পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদীর নেতৃত্বে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নবান্ন চত্বর ঘুরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াত পথ, প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থা, সভাস্থলের নিরাপত্তা, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, গাড়ি চলাচল, নজরদারি ক্যামেরা এবং বাহিনীর মোতায়েন প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবান্নের প্রতিটি প্রবেশপথে বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি। বহুতলের ভিতরে এবং বাইরে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়। প্রশাসনিক ভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে সক্রিয়তা বাড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সোমবার নবান্নে পৌঁছে প্রথমে তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে পরবর্তী কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের প্রশাসনিক সূচনাকে ঘিরে নবান্নে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনওরকম ফাঁক রাখতে নারাজ প্রশাসন। নবান্ন চত্বরে সাধারণ মানুষের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরের গাড়ি চলাচল সীমিত রাখার বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা চলছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবস যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনকে সামনে রেখে নবান্ন কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। সোমবারের বৈঠকের মধ্য দিয়েই নতুন সরকারের প্রশাসনিক রূপরেখা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।