নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম :
পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে দোল উৎসবের দিন সোনাঝুরি জঙ্গলে আবির খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি উঠল। সেই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে বহুচর্চিত ‘খোয়াই হাট’। এই দাবিতে বন দপ্তরের কাছে ডেপুটেশন দিল শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি খোয়াই হাট কমিটি। তাঁদের বক্তব্য, দোলের দিনে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সোনাঝুরি জঙ্গলে ঢুকে পড়েন। এর ফলে বনাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
প্রসঙ্গত, শান্তিনিকেতন সংলগ্ন সোনাঝুরি জঙ্গল এলাকায় গড়ে ওঠা খোয়াই হাট নিয়ে ইতিমধ্যেই মামলা চলছে জাতীয় পরিবেশ আদালতে। অভিযোগ, বন সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেই এই হাট পরিচালিত হচ্ছে। সেই আবহেই এবার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ব্যবসায়ীরাই উদ্যোগী হলেন হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে।
এর আগেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। গত ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি বীরভূমের জেলা শাসক ও জেলা বনাধিকারিককে চিঠি দিয়ে জানান, দোলের দিনে সোনাঝুরি জঙ্গলে আবির ও রঙ খেলার নামে ব্যাপক ভিড় জমে এবং এতে গাছপালা, মাটি ও বন্যপ্রাণের ক্ষতি হয়। চিঠিতে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।
এবার খোয়াই হাটের ব্যবসায়ীরাও জানালেন, তাঁরা চান না দোলের দিনে জঙ্গলের ভিতরে কোনও রকম হুল্লোড় বা উৎসব চলুক। সেই কারণেই আগাম সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ৩ ও ৪ মার্চ সোনাঝুরি জঙ্গলের খোয়াই হাট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।
খোয়াই হাট কমিটির পক্ষে মহম্মদ আবুল ফজল ও কাউসার শেখ জানান,
“সোনাঝুরি জঙ্গলে আমরা কোনও দোল উৎসব করি না। তবু দোলের দিনে প্রচুর মানুষ জঙ্গলে ঢুকে পড়ে, আবির ও রঙ খেলে পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই পরিবেশ রক্ষার্থে আমরা ৩ ও ৪ মার্চ হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যবসার ক্ষতি হলেও পরিবেশ বাঁচানোই আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সিদ্ধান্তের কথা বন দপ্তরকে জানিয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।”
তাঁদের দাবি, সোনাঝুরি জঙ্গল এলাকায় বন সুরক্ষা আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওভাবেই অবৈধ জমায়েত বা রঙ খেলা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
পরিবেশবিদদের মতে, সোনাঝুরি জঙ্গল সংলগ্ন এলাকা ইতিমধ্যেই পর্যটনের চাপে বিপর্যস্ত। দোলের সময় হাজার হাজার মানুষের সমাগমে শব্দদূষণ, প্লাস্টিক ও রঙিন আবিরের ব্যবহার জঙ্গলবাসী গাছপালা ও পাখিদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই হাট কমিটির এই সিদ্ধান্ত পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এখন দেখার, প্রশাসন কীভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে এবং দোলের দিনে সোনাঝুরি জঙ্গলকে কতটা সুরক্ষিত রাখা যায়। ব্যবসায়ী সংগঠন ও পরিবেশকর্মীদের একযোগে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে পরিবেশ রক্ষার বার্তা আরও জোরালো করল।
