ওঙ্কার ডেস্ক: নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের অন্দরে ফের একবার অস্বস্তির ছবি সামনে এসেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূলের একাংশ কর্মী এখনও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এই বিষয়টি ঘিরেই নন্দীগ্রামের তৃণমূল সংগঠনে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের আবহ ক্রমশ ঘনিয়ে উঠছে। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কেটে গিয়েছে পাঁচ বছর, কিন্তু তাঁর প্রভাব যে এখনও পুরোপুরি ফুরোয়নি, সেই ইঙ্গিতই মিলছে স্থানীয় রাজনীতিতে। অন্যদিকে পদ্মফুল শিবিরেও উঠছে একই অভিযোগ। নন্দীগ্রামে বিজেপি নেতৃত্বের কথায় দলের অনেকেই ভিতরে ভিতরে তৃণমূল করছে।
রাজ্যে শাসক দলের অন্দরমহলের কথাবার্তায় উঠে আসছে, নন্দীগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে তৃণমূলের সংগঠন কার্যত একাধিক ভাগে বিভক্ত। কে কাদের সঙ্গে রয়েছেন, কে আদৌ দলের স্বার্থে কাজ করছেন কি না এই প্রশ্ন ঘিরেই কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ বাড়ছে। কোথাও কোথাও একই এলাকায় একাধিক গোষ্ঠী নিজেদের ‘আসল’ সংগঠন বলে দাবি করছে। ফলে সংগঠন মজবুত করার বদলে তা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
নন্দীগ্রাম এমন এক রাজনৈতিক ক্ষেত্র, যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে ছিল। তৃণমূলের হয়ে রাজনীতি করার সময় তাঁর তৈরি করা সংগঠনিক কাঠামো এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি তাঁর নাজির গত বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফলই দেখিয়ে দিয়েছে। সেই কারণেই তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের কাছে আশঙ্কা, দলের ভেতরের কেউ কেউ পুরনো যোগাযোগ ধরে রেখে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করতে চাইছেন।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব সংগঠনকে একজোট রাখার চেষ্টা করলেও বাস্তবে তা সহজ হচ্ছে না। কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, অবিশ্বাসের পরিবেশ কাটাতে স্পষ্ট বার্তা ও কড়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, তৃণমূলের এই অন্তর্দ্বন্দ্বই প্রমাণ করছে যে নন্দীগ্রামে তাদের সংগঠন এখনও দুর্বল এবং সেই সুযোগেই বিজেপি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারবে। নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক লড়াই যে শুধু দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কত দ্রুত কাটাতে না পারলে তার প্রভাব আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পরবে তা নিশ্চিত।
