নিজস্ব প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদ: বেলডাঙার রুক্ষ ভূমিতে হিমাচলের আপেল, উপত্যকার জাফরান ফুটিয়েছিলেন আগেই। আর এবার কাশ্মীরের টিউলিপ ফুটিয়ে তাক লাগালেন এক স্কুল শিক্ষক। শিক্ষকের ছাদ বাগান আলো করেছে টিউলিপ। এবারও দশটির বেশি জাফরন ফলিয়েছেন স্কুল শিক্ষক রুপেশ দাস।
কাশ্মীরের টিউলিপ ফুটিয়ে রুপেশবাবুর দাবি, উষ্ণ প্রতিকুল আবহাওয়া এখানে। তবে সঠিক পরিচর্যার জন্যই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। উপত্যকার টিউলিপ ফুল দেখতে রোজ রুপেশের বাগানে ভিড় জমাচ্ছেন বন্ধু বান্ধব পরিচিত জনেরা। রুপেশ দাস বলেন, অন্য প্রদেশের ফল ও ফুলের চাষই আমার শখ। স্কুলের পর বাগানের পরিচর্যা নিয়েই সময় কেটে যায়। গাছে ফুল ফল এলে এক অন্য অনুভূতিতে মন ভরে যায়। অনেকে পরামর্শ নিতে আসেন এই ধরণের বিকল্প ধরণের চাষের জন্য।
বেলডাঙা চক্রের নওপুকুরিয়া নতুনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক রুপেশ দাস। রুপেশের শখের বাগানে রয়েছে হিমাচলের আপেল, পিচ, পার্সিমন, এফ্রিকট, ব্লু-বেরির মতো বিদেশি ফলের গাছ। বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষও করেছেন তিনি। ছটি আপেল গাছে আগেই ফল এসেছিল। এবারও প্রচুর আপেল ফলবে বলেই আশাবাদী ওই স্কুল শিক্ষক।
বাংলার মাটিতে জাফরান (কেশর) চাষ খুব একটা দেখা যায় না। গত অক্টোবর মাসে অনলাইন অর্ডার দিয়ে কিছু জাফরানের কন্দ নিয়ে এসেছিলেন রুপেশ। বেশ কিছু কন্দ খারাপ অবস্থায় ছিল। সেগুলি প্রথমে ফাঙ্গিসাইট দ্রবনে কিছু ক্ষণ ডুবিয়ে রেখে ছত্রাক মুক্ত করেন। তার পর রোদে শুকিয়ে নিয়ে অন্ধকার ঘরে একটি কাঠের বাক্সে রেখে নিয়মিত তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। । বালি, কোকোপিট, সামান্য মাটি এবং অল্প পরিমাণে ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে এই গাছের উপযুক্ত মিডিয়া তৈরি করা হয়। তারপর ডিসেম্বর মাসে সেগুলি রোপন করা হয়। খুব সকালের সামান্য রৌদ্র এবং অল্প পরিমাণ জল দিতেই দ্রুত শিকড় বৃদ্ধি হতে শুরু করে। আর্দ্রতা বৃদ্ধির জন্য গাছের চারপাশে জলের পাত্র রেখে দেওয়া হয়। তাপমাত্রা ১৭-২২ ডিগ্রির কাছাকাছি আসতেই সামান্য জৈব পটাশ দিতেই ধীরে ধীরে জাফরান ফুলের কুঁড়ি বের হতে শুরু করে। কুঁড়ি থেকে ফুল ফুটতে দু’দিন সময় লাগে। এই কেশর বা জাফরান ফুল মোটামুটি ৬ থেকে ৭ দিন সতেজ থাকে। রুপেশ বলেন, এবার ধাপে ধাপে অনেক ফুল ফুটেছে। ফলও পেয়েছি। এবারই একইভাবে অন লাইনে টিউলিপ চারা আনিয়ে চল্লিশটি টিউলিপ লাগিয়েছিলেন ছাদ বাগানের টবে। গত বছর বেশ কয়েকটি টিউলিপ ফুটেছিল। সঠিক পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে গাছ। ফুল আসতেই খুশির উচ্ছাসে ফেটে পড়েন দম্পতি। রুপেশকে বাগান পরিচর্যায় সাহায্য করেন তাঁর স্ত্রী রাজশ্রী প্রামাণিক। রাজশ্রীদেবী বলেন, বাড়ির ছাদে কাশ্মীরের ছোঁয়া পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এটা আমার কাছে স্বামীর দেওয়া সেরা উপহার। বাড়ির ছাদে বাবার ফোটানো ভিন রাজ্যের ফুল দেখে খুশি ছেলেও। ফুলের পাপড়িতে হাত বুলিয়ে আনন্দ পান রুপেশ রাজশ্রী। রুপেশ জানান, ইচ্ছে আছে কাশ্মীরের মতো একটি বাগানে টিউলিপ ও কেশর চাষের।
