ওঙ্কার ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপে এক মহিলাকে তিন তালাক দেওয়ার অভিযোগ তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তালাকের পর ওই মহিলাকে শ্বশুরের সঙ্গে বিয়ে করতে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বেগুসরাই জেলায়।
রিপোর্ট অনুসারে, বিহারের বেগুসরাই জেলার ফুলওয়ারিয়া থানা এলাকার শোখরা-২ কালামবাগের বাসিন্দা ওই মহিলার নাম রুকসানা খাতুন। তাঁর স্বামী মহম্মদ মকবুলকে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে তিন তালাক দেন। অভিযোগ, তাঁর বিয়ে হয়েছিল ২০২২ সালের ১১ মার্চ। ওই মহিলার পরিবার বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৫১,০০০ টাকা নগদ এবং দুটি সোনার গয়না দিয়েছিল। রুকসানা অভিযোগ করেন, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আরও ৫ লক্ষ টাকা দাবি করতে শুরু করে। তা দিতে না পারায় মারধর করা হয়। এমনকি হয়রানি করার পাশাপাশি তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপে, ওই মহিলা শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। পরে তাঁর স্বামীর সঙ্গে দিল্লিতে চলে যান। রুকসানা অভিযোগ করেন, দিল্লিতেও তাঁকে নির্যাতন করা হয়। তাঁর স্বামী বারবার তাঁর এবং তাঁর পরিবারের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। রুকসানা বলেন, অতিরিক্ত টাকা মেটাতে তাঁর মাকে গয়না বন্ধক রেখে এবং ঋণ নিয়ে ৫ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট ১৬-১৭ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে।
রুকসানা অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইলে তখন তাঁর স্বামী তাঁর বাবার বাড়িতে হামলা চালায়। সেই আক্রমণে রুকসানা এবং তাঁর ভাই জখম হন। ওই মহিলা দাবি করেন, ২০২৩ সালের জুনে তিনি সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে হয়রানি আরও বাড়ানো হয়। তাঁর অভিযোগ, ফোনে অশ্লীল ভাষায় তাঁকে হুমকি দেন স্বামী। এমনকি দেহ ব্যবসায় নামতে বাধ্য করার কথাও বলেন। রুকসানার অভিযোগ, তিনি তাঁর সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করলে শ্বশুর অথবা দেওরের সঙ্গে হালালা (বিয়ের) জন্য চাপ দেয়। মহিলা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা সত্ত্বেও ন্যায়বিচার পাননি। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য মমতা কুমারী বলেন, মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তিন তালাক প্রথার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের কাছ থেকে একটি রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
