অন্নপূর্ণা দেবী
যখন নারীর উত্থান ঘটে, তখন দেশেরও উত্থান হয়। সমতা ও ন্যায়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সমাজে নারীর মর্যাদা নিয়ে কোনও আপস হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার, নারীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়নের জন্য সর্বাত্মক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যথার্থই বলেছেন, “আমাদের সরকার নারীদের জন্য ‘সম্মান’ এবং ‘সুবিধা’-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।” এই কথাগুলি শুধুমাত্র কোনও অনুভূতি নয়, এগুলি হ’ল সেই ভিত্তি, যার মাধ্যমে মোদী সরকার ভারতের প্রতিটি প্রান্তে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে – ওয়ান স্টপ সেন্টার। এই পর্যন্ত দেশজুড়ে ৮৬২টি ওএসসি সক্রিয় রয়েছে, যার মাধ্যমে ১২.২০ লক্ষেরও বেশি মহিলা আইনি সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, পুলিশি সাহায্য, আশ্রয় এবং মানসিক পরামর্শ সহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়েছেন।
ভয় থেকে স্বাধীনতা, নীরবতা থেকে সহায়তা – ওএসসি হল সেই জায়গা, যেখান থেকে নিরাময় শুরু হয়। কোনও মহিলা তাঁর বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে বা জনসমক্ষে হিংসার শিকার হলে, ওএসসি’গুলি তাঁর সহায়তা, মর্যাদা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রদানের ব্যবস্থা করে থাকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই কেন্দ্রগুলি হাসপাতালের মধ্যে বা তার কাছাকাছি থাকার কারণে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে, গুরুত্বপূর্ণ হল মহিলা হেল্পলাইন (181), যা বিপদে পড়া মহিলাদের ২৪x৭ সহায়তা নিশ্চিত করে থাকে। ৩৫টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে ২.৫৬ কোটিরও বেশি টেলিফোন কলের নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ৯৩.৪৮ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে (৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)।
পদ্ধতিগত দায়বদ্ধতা এবং দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে আমরা ৪০৪টি পসকো আদালত সহ ৭৪৫টি ফাস্ট-ট্র্যাক বিশেষ আদালত গঠন করেছি। এগুলির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩.০৬ লক্ষেরও বেশি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। প্রতিটি রায়দানের মাধ্যমে প্রতিটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যা ন্যায়সঙ্গত এবং লিঙ্গ-সমতাপূর্ণ ভারত গড়ার লক্ষ্যে একটি পদক্ষেপ।
একইসঙ্গে, আমরা থানাগুলিতে ১৪,৬৫৮টি মহিলা হেল্প ডেস্ক (ডব্লিউএইচডি) তৈরি করেছি। এর মধ্যে ১৩,৭০০টিরও বেশি হেল্প ডেস্ক মহিলারাই পরিচালনা করেন। এই ডেস্কগুলি অপরাধের অভিযোগ দায়ের করার জন্য পীড়িত মহিলাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। মহিলা আধিকারিকদের উপস্থিতি কেবল আত্মবিশ্বাসই যোগায় না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংবেদনশীলতা এবং দায়বদ্ধতাকেও শক্তিশালী করে।
আমরা ৮০৭টি মানব পাচার বিরোধী ইউনিটের মাধ্যমে মানব পাচার প্রতিরোধ করছি এবং নির্ভয়া তহবিলের আওতায় রেল ও সড়ক পরিবহন পরিষেবাগুলিতে জরুরি নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ যাতায়াত সুনিশ্চিত করছি।
এই সুসংহত দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, সেইসঙ্গে প্রতিরোধ, পুনর্বাসন এবং ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রও প্রসারিত করছে। ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে, আমরা মানসিকতায় পরিবর্তন আনছি এবং সম্মান, সমতা এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছি। পিএমএমভিওয়াই এবং সখী নিবাসের মাধ্যমে আমরা এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করছি, যা নারীদের কেবল বেঁচে থাকাই নয়, বরং জাতির অগ্রগতির অংশীদার হিসেবেও তাঁদের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয়। আমাদের সখী নিবাস হস্টেলগুলিতে ২৬,০০০-এরও বেশি কর্মরত নারীর নিরাপদে এবং কম খরচে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
“সংকল্প: নারীর ক্ষমতায়নের কেন্দ্র” চালু করার মাধ্যমে, আমরা স্থানীয়ভাবে রূপায়ণের একটি কৌশলগত স্তর যুক্ত করেছি। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ২৭ লক্ষেরও বেশি মহিলা উপকৃত হয়েছেন। নারীর বিরুদ্ধে হিংসা শুধুমাত্র মহিলাদের নিজেদের সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রকের সম্মিলিত অঙ্গীকার হ’ল – প্রতিটি নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং গর্বের সঙ্গে বেঁচে থাকাকে সুনিশ্চিত করা।
যেহেতু আমরা ভারতের অগ্রগতি ও রূপান্তরের স্বর্ণযুগ – অমৃত কালে প্রবেশ করছি, তাই নারীর ক্ষমতায়ন কেবল একটি লক্ষ্য নয়, বরং এটি হ’ল জাতীয় লক্ষ্য। নারীর ক্ষমতায়নের উপর প্রধান গুরুত্ব না দিলে, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের ভাবনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
নারীশক্তি কোনও একটি স্লোগান নয়। এটি আমাদের কৌশল। এটি আমাদের শক্তি। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ। যত্নপরায়ণ, পরিবর্তনকারী, উদ্যোগী এবং নেত্রী হিসেবে নারীরা হলেন বিকশিত ভারতের মেরুদণ্ড। প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা একটি শক্তিশালী, নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত গড়ে তুলছি।
আমাদের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। একজন ক্ষমতায়িত নারী হলেন একটি নিরাপদ জায়গা। এবং প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা একটি শক্তিশালী, নিরাপদ এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত গড়ে তুলছি।
