ওঙ্কার ডেস্ক : ভারতে হাতিদের জাতীয় ঐতিহ্যবাহী প্রাণীর মর্যাদা দেওয়া হয়। এই বন্যপ্রাণী গভীর ভাবে জড়িয়ে আছে এ দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে। স্মরণাতীত কাল ধরে হাতি নিয়ে যে আগ্রহ ও অনুরাগ কাজ করে ভারতীয় সমাজজীবনে তাকে আরও সমৃদ্ধ করতে মঙ্গলবার কোয়েম্বাটোরে বিশ্ব হাতি দিবস উদযাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এতে অংশ নেবেন বনবিদ, নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজ এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। হাতি সংরক্ষণ কৌশল এবং সংঘাত সমাধানের বিষয়ে আলোচনা থাকছে এই বিশেষ আয়োজনে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক তামিলনাড়ু বন বিভাগের সহযোগিতায় হাতি সংরক্ষণের বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বিশ্বে সবচেয়ে প্রতীকী প্রজাতিগুলির মধ্যে অন্যতম হল হাতি। তাদের সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আরও জোরদার সচেতনাতার উপর নজর দিতে চায় সংস্থাটি। ভারতে বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ বন্য হাতি রয়েছে। এ দেশে হাতি করিডোর সম্পর্কিত ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুসারে ৩৩টি হাতি সংরক্ষণাগার এবং ১৫০টি চিহ্নিত হাতি করিডোর রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং ব্যাপক জনসমর্থনের মাধ্যমে, দেশটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সঙ্গে মানব কল্যাণের সমন্বয় সাধনে সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে ভারত।
জৈবিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির জন্য পরিচিত তামিলনাড়ুতে হাতির একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা রয়েছে। মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই রাজ্য। কোয়েম্বাটোর ইভেন্টটি বনবিদ, নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের জন্য সংরক্ষণ কৌশল এবং সংঘাত সমাধানের বিষয়ে ধারণা বিনিময়ের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কৃতি বর্ধন সিং, তামিলনাড়ু সরকারের বন ও খাদি মন্ত্রী আর. এস. রাজকান্নাপ্পান। MoEF&CC, তামিলনাড়ু বন বিভাগ, রেল মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য রাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।
একটি সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাতি-হাতির সংঘাত বিষয়ক একটি কর্মশালা কোয়েম্বাটুরেও আয়োজন করা হবে, যাতে হাতি-হাতির সহাবস্থান সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলি ভাগ করে নেওয়া যায়। এই উদ্যোগটি প্রজেক্ট এলিফ্যান্টের অধীনে চলতি প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যা মানুষ এবং হাতির মধ্যে সংঘাত মোকাবেলায় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উপর জোর দেয়। জঙ্গল মহলে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার দিক থেকে হাতি সংরক্ষণের বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
কর্মশালাটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন খাদ্য ও জলের সন্ধানে হাতির মানুষের বসতি এলাকায় ঢুকে পড়ছে। যার ফলে ওইসব এলাকার মানুষের মধ্যে হাতি নিয়ে সচেতনা আবশ্যিক হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, সংরক্ষণবাদী এবং বন কর্মকর্তাদের কাছে হাতির জন্য সুরক্ষিত আবাস্থল গড়ে তোলা একরকম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে সব জায়গায় হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাত দেখা দিচ্ছে সেই সব এলাকায় এদের সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার। এই সহযোগিতামূলক পদ্ধতির লক্ষ্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকে মানব কল্যাণের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ করা, সম্প্রদায় এবং হাতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সহাবস্থানকে উৎসাহিত করা। এই লক্ষ্যে প্রায় ৫,০০০ স্কুলের প্রায় ১২ লক্ষ স্কুল শিশুকে সম্পৃক্ত করে একটি দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করা হবে, যা হাতি সংরক্ষণের প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ বাড়াতে জোর দেবে।
