নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীর অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমান সভাধিপতি জানিয়েছেন, কারা এবং কেন এই কাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। তবে ঘটনায় আতঙ্কে ছড়িয়েছে কর্মীদের মধ্য়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল আচমকা জেলা পরিষদ ভবনে ঢুকে পড়ে। সে সময় সভাধিপতি অফিসে ছিলেন না। কর্মীদের দাবি, ওই দলটি এসেই সভাধিপতি কোথায় আছেন জানতে চায়। তিনি অফিসে নেই বলার পরেও তারা ভবন ছাড়েনি। উল্টে কর্মীদের সঙ্গে বচসা শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সভাধিপতির জন্য নির্দিষ্ট ঘরে ঢুকে আলমারি ও শোকেস খুলে জিনিসপত্র ঘাঁটতে থাকে। বাধা দিতে গেলে লাথি মেরে আলমারির পাল্লা ভেঙে দেওয়া হয় এবং শোকেস থেকে জিনিসপত্র বের করে ফেলে দেওয়া হয়।
সভাধিপতির ব্যক্তিগত সহায়ক দুর্গা সেন মল্লিক বলেন, “সভাধিপতি তখন অফিসে ছিলেন না। হঠাৎ একদল লোক ঢুকে তাঁর খোঁজ করতে থাকে। একজন কর্মীর কাছে তাঁর বিষয়ে জানতে চায়। অফিসের আলমারি ও শোকেসের অবস্থা দেখলেই বোঝা যাবে কীভাবে তছনছ করা হয়েছে।”
জেলা পরিষদে কর্মরত অসিত মজুমদার জানান, ৩০-৪০ জন যুবক হঠাৎ ঘরে ঢুকে আলমারির চাবি চায় এবং এক কর্মীকে ফোন করে ডাকা হয়। তাঁর কথায়, “ওদের কাউকেই চিনি না। এতজন একসঙ্গে ঢুকে ভাঙচুর চালানোয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর পিছনে রাজনৈতিক কারণ আছে কি না, এখনও স্পষ্ট নয়।” পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্মীরা স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
এ বিষয়ে সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। দফতরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জেনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই নারায়ণের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। তার পর তিনি জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। তার মধ্যেই ফের তাঁর দফতরে এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।