উপনির্বাচনের আগে রবিবার শেষ প্রচারে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নন্দীগ্রামের মিছিল থেকে সংখ্যালঘুদের ভোট ও মূলস্রোতে আসার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার ঘটনা নিয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধোনা করেন তিনি।
খোদ চিকিৎসকদের রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর দাবি, সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে বা সফট টিস্যুতে আদতে কোনও গুরুতর আঘাতই লাগেনি। পুরোটাই ছিল সাজানো নাটক। এই প্রসঙ্গেই তাঁর কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন, ‘মার্চের ১০ তারিখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করলে কেমন হয়?’
রবিবার নন্দীগ্রামের শেষদিনের প্রচারের মঞ্চ থেকে একুশের সেই বহুলচর্চিত ঘটনার স্মৃতি উস্কে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষের সুরে বলেন, “ওটা তো মিথ্যা প্রমাণ হয়ে গেছে। ওনার পায়ে কিচ্ছু হয়নি। গাড়ির বনেটে লেগেছিল সামান্য চোট… নিশ্চয়ই সামান্য চোট লাগলেও সবার সুস্থতা আমরা চাই। কিন্তু আমি তো ভাবছি, মার্চের ১০ তারিখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করলে কেমন হয়? যে কাগজপত্র পাওয়া গেল, তাতে হাড়ে তো দূরের কথা, কোনও মাংসপেশিতেও আঘাত লাগেনি।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে পা চোট পাওয়ার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্লাস্টার ও ব্যান্ডেজ পরে হুইলচেয়ারে বসে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের দুটি রেডিওলজি রিপোর্ট সামনে এসেছে। ওই রিপোর্টগুলির প্রতিলিপি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁ হাঁটুতে হাড় ভাঙা বা সন্ধি সরে যাওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি। হাঁটুর চারপাশের নরম টিস্যু বা সফট টিস্যুও মোটের উপর স্বাভাবিক ছিল। এমনকি বুকের পরীক্ষায় হাড়ের আঘাত বা রক্ত জমাট বাঁধারও কোনও হদিস মেলেনি। চিকিৎসকদের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই সরব হয়েছে শাসক শিবির।
এই ইস্যুতে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “সেদিন চোটের ভান করে ‘খেলা হবে’ বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জয়ের ঠিক পরপরই সেই ব্যান্ডেজ রাতারাতি খোলা হয়। চিকিৎসকদের রিপোর্ট প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তাঁর হাড় বা টিস্যুতে কোনও চোটই ছিল না। তাঁর পুরো রাজনীতিটাই মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।”
পাশাপাশি, রবিবার নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমরা বলি না যে ‘জয় শ্রী রাম’ মুসলমানদেরও বলতে হবে। আমরা কাউকে বাধ্য করি না। ওদের ইচ্ছা হলে বলবে রাম রাজ্যের কথা, না হলে ভারত মাতার জয় বলবে একসঙ্গে। মূলস্রোতে আসুক।” তিনি আরও জানান, এখানকার বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু মানুষ এবার প্রচারের সুযোগ করে দিয়েছেন, এখন দেখার তাঁরা ভোটবাক্সে কী রায় দেন। সবমিলিয়ে, উপনির্বাচনের ঠিক আগে নন্দীগ্রামের রাজনীতির উত্তাপ এখন চরমে।