মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভের মধ্যেই বড় অভিযোগ। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেন এক মহিলা সাংবাদিক। ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী থেকে ককরোচ জনতা পার্টি।
অভিযোগকারী সাংবাদিকের দাবি, শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের খবর করতে গিয়েছিলেন তিনি। তখনই হেনস্থার শিকার হন। এরপর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও পুলিশ তাঁর অভিযোগ নেয়নি, এফআইআরও করেনি। তাঁর কথায়, “আমি এসিপি বিবেক ভগৎকে প্রশ্ন করতেই তিনি পালিয়ে যান।” এই বিষয়ে রবিবার দিল্লি পুলিশ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও কোনও এফআইআর রুজু হয়নি। তাদের বক্তব্য, অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। আগে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে, তারপর মামলা করা হবে কি না সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পুলিশের আরও দাবি, ঘটনাস্থলে বহু ক্যামেরা ছিল, হেনস্থা হয়ে থাকলে তার প্রমাণ থাকা উচিত। পুলিশকে টার্গেট করতেই এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সিজেপি সদস্য রত্না সিংহ জানিয়েছেন, নির্যাতিতাকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য আরএমএল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর আবার থানায় ফিরিয়ে আনা হয়।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এক্স হ্যান্ডেলে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, যন্তর মন্তরে পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ করেছেন এক মহিলা সাংবাদিক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাংবাদিকরা থানার সামনে বসে ছিলেন শুধু এফআইআর-এর দাবিতে। পুলিশের কি এটা কর্তব্য নয়? এখনও এফআইআর হয়নি। রাহুলের সরাসরি প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এর জবাব দিতে হবে। কারণ দিল্লি পুলিশ তাঁর মন্ত্রকের অধীনেই। সরকার কাকে আড়াল করতে চাইছে?
সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাসের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, এসিপি বিবেক ভগৎ নিজেই ওই মহিলাকে হেনস্থা করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “দিল্লি পুলিশ কেন এসিপি ভগৎকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে? আমরা ওই সাংবাদিকের পাশে আছি। ওই অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর করে সাসপেন্ড করা উচিত।” সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও একই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এসিপি-কে আড়াল করা হচ্ছে।