এসআইআর বিতর্কে দেশজুড়ে ইস্তফার দাবির মুখে এবার পুরনো মামলায় আরও চাপে পড়লেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে কেরলে থাকাকালীন অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকার।
অভিযোগ, কেরলের পূর্ত দফতরের সচিব থাকাকালীন একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন জ্ঞানেশ। সেই সময় কেরল স্টেট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট বা কেএসটিপি-র কাজে যুক্ত এক মালয়েশিয়ান ইঞ্জিনিয়ার আত্মহত্যা করেছিলেন এবং তাঁর সুইসাইড নোটে জ্ঞানেশের নাম ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। কেরলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা রাজ্যের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি করাপশন ব্যুরোর ডিরেক্টরকে এই মামলার ফাইল নতুন করে খুলতে বলেছেন। তদন্তে কোনও বাইরের প্রভাব ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমনিতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে রয়েছেন জ্ঞানেশ। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে উপেক্ষা করে একাই এসআইআর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ১০ মাসে ১৪ বার লিখিতভাবে তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছিল এবং অন্য কমিশনাররা সেই পদক্ষেপকে বেআইনি বলেও উল্লেখ করেন। এই রিপোর্টের পরই তাঁর ইস্তফার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এই আবহেই পুরনো মামলাটি সামনে আনল কেরল সরকার।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ২০০৬ সালের। কেএসটিপি-র অধীনে তিরুবনন্তপুরম থেকে অঙ্গমালি পর্যন্ত ২৪০ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছিল। এটি ছিল ভারত ও মালয়েশিয়ার যৌথ প্রকল্প। এই প্রকল্পের ম্যানেজার ছিলেন মালয়েশিয়ার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার লি সি বিন। ওই বছরই তিনি আত্মঘাতী হন। অভিযোগ, তাঁর সুইসাইড নোটে জ্ঞানেশের নাম লেখা ছিল। কংগ্রেস নেতা মালয়ানকীজু বেণুগোপালের দাবি, সেই সময় তদন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল পথে চালানো হয় এবং মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি ফের অভিযোগ দায়ের করলে তার ভিত্তিতেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেরল সরকারের বক্তব্য, পূর্ত সচিব থাকাকালীন ঠিকাদারদের কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক আচরণের অভিযোগ ছিল। আগেও তদন্ত শুরু হয়েছিল কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি তদন্তের আওতার বাইরে থেকে যান। পিটিআই সূত্রে খবর, ২০০৬ সালে ওই ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর পরই ডেপুটেশনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে চলে যান জ্ঞানেশ। এবার সমস্ত অভিযোগ নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।
যদিও ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর রক্ষাকবচ রয়েছে। সরকারি কাজের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা যায় না। কিন্তু দেশজুড়ে তরুণ প্রজন্ম এবং বিরোধী শিবির তাঁর ইস্তফার দাবিতে সরব। ককরোচ জনতা পার্টি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ১০ অক্টোবরের মধ্যে জ্ঞানেশ ইস্তফা না দিলে দিল্লির যন্তর মন্তরে ফের বড় বিক্ষোভ হবে। ফলে কেরল সরকারের এই সিদ্ধান্তে আরও অস্বস্তিতে পড়লেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।