ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারে চলতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় সামনে এল এক বিস্ময়কর তথ্য। পিরপাইন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের এক বাসিন্দা আশাদেবী নামের এক মহিলার বয়স ভোটার তালিকা অনুযায়ী ১২০ বছর। তিনি সক্রিয় ভোটার হিসেবেই তালিকাভুক্ত।সেই বিষয়ে তদন্তে নেমে মহিলার বয়স সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখেছে কমিশন।
নথি অনুযায়ী, আশাদেবীর জন্ম ১ জানুয়ারি, ১৯০৫ সালে। তিনি ফেকু টোলা, শ্রিমতপুর, কালি প্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা ও চলিতার মণ্ডলের স্ত্রী। বুথ নং ২৯২ ফেকু টোলা মধ্য বিদ্যালয় (উত্তরাংশ)-এ বুথ লেভেল অফিসার ফারজানা খাতুন তাঁর ভোটার তথ্য যাচাই করেন। নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকও বয়সের সত্যতা যাচাই করে নিশ্চিত করেন। আশাদেবীর আধার নম্বরও যাচাই করেছে কমিশন।এরপরই তাঁর নাম সংশোধিত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমে আশাদেবীর বয়স ও ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের তরফে পুনরায় যাচাই করা হয়। প্রসঙ্গত, আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রথম দফার সংশোধন প্রক্রিয়ায় রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে।
এদিকে, সিওয়ান জেলায় ভোটার তালিকার খসড়ায় সামনে এসেছে আর এক বয়স সংক্রান্ত ভুল। সেখানে এক তরুণীকে ভুলবশত ১২৪ বছর বয়সী বৃদ্ধা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে জন্ম তারিখের ত্রুটির কারণে। দারাউলি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত অরজনীপুর বায়া ভগ গ্রামে অবস্থিত, বুথ নং ৯৪-এ মিন্তা দেবী নামে এক মহিলার ভোটার অন্তর্ভুক্তির আবেদন অনলাইনে ফর্ম-০৬-এর মাধ্যমে জমা হয়েছিল। কিন্তু জন্মতারিখ ভুলবশত ১৫ জুলাই, ১৯০০ প্রবিষ্ট হওয়ায় খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর বয়স দাঁড়ায় ১২৪ বছর। বুথ লেভেল অফিসার পরে মিন্তা দেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ত্রুটির কথা জানান এবং ১০ অগস্ট, ২০২৫-এ ফর্ম-০৮-এর মাধ্যমে সংশোধন আবেদন করান। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন অভিযানে এমন একাধিক বয়স ও তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়ছে, যা পর্যায়ক্রমে যাচাই ও দ্রুত সংশোধন করা হচ্ছে, যাতে আসন্ন নির্বাচনে সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভপর হয়।
