ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযানে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি-র এক শীর্ষ কম্যান্ডারসহ একাধিক জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। ইসলামাবাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছিল আইএসপিআর, সেই চেষ্টাকেই নস্যাৎ করতে জওয়ানরা দ্রুত অভিযান শুরু করেন। দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময়ের পর জঙ্গিদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছে তেহরিক-ই-তালিবানের অন্যতম শীর্ষনেতা আলম মাহসুদের বলে দাবি করেছে পাক সেনা।
নিহত কম্যান্ডারের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, আমজাদ ও মাজাহিম নামে পরিচিত এই দুষ্কৃতী টিটিপির শুরা কাউন্সিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক নাশকতার অভিযোগ ছিল এবং মাথার উপর ছিল পাঁচ মিলিয়ন রুপির পুরস্কার। সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনা, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী মডিউল গঠন সবেতেই তাঁর যোগ ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
সেনা সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে গত কয়েক মাসে টিটিপির তৎপরতা বেড়েছে। অনুপ্রবেশ আটকাতে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর যৌথ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেই কৌশলগত নজরদারির ফল হিসেবেই এই অভিযান সফল হয়েছে বলে দাবি। নিরাপত্তা বাহিনীর বক্তব্য, অস্থির সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বিদেশি মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীর বাড়বাড়ন্তের প্রেক্ষিতে ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ অভিযানের অধীনে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।
এ দিন পাকিস্তান সেনা জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতাবস্থাকে বিঘ্নিত করার যে কোনও চেষ্টা কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে। খাইবার-পাখতুনখোয়ার এই সফল অভিযানের পরে গোটা সীমান্ত জুড়ে আরও কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ দিকনির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এই অভিযান ভবিষ্যতেও জঙ্গি সংগঠনের মনোবল ভেঙে দেবে এবং দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ রুখতে বড় ভূমিকা নেবে।
