অর্পিতা মুখার্জি, মুম্বই: ফের বলিউডকে নিশানা। রবিবার সন্ধ্যায় অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে পর পর পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পর অভিনেতার যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তাঁর কাঁধ ও বুকে ব্যান্ডেজ, ডান হাতের কব্জিতেও বাঁধা ব্যান্ডেজ। রবিবার রাতেই তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে। তবে এই আক্রমণের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট না।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ জুহু থানা এলাকায় একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বেরনোর সময় এই হামলা হয়। পরপর পাঁচ রাউন্ড গুলি চলে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন টাইগার। তবে গুলিতে আহত হয়েছেন দু’জন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতার গাড়িচালক। এরপর রাতেই টাইগারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের একনাথ শিন্দে বলেন, “এটা অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। সৌভাগ্যবশত টাইগার নিরাপদে আছেন, তবে তাঁর গাড়িচালক আহত। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।”
শিন্দে আরও জানান, সরাসরি গুলি না লাগলেও বারুদের ছিটে ও ভাঙা কাচের টুকরোয় টাইগারের বাঁ হাতে চোট লেগেছে। তাঁর কথায়, “আমি টাইগারের সঙ্গে দেখা করেছি। বারুদ ও কাচের কারণে ওর বাঁ হাতে আঘাত লেগেছে। টাইগার এবং ওর মা দু’জনেই যথেষ্ট আতঙ্কিত।”
অভিনেতার পরিবারকে আশ্বস্ত করে উপমুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। কোনও রকম হুমকি বা ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। শিন্দের স্পষ্ট বক্তব্য, “মুম্বইয়ে কারও দাদাগিরি চলবে না। মানুষকে ভয় দেখিয়ে আধিপত্য কায়েম করার চেষ্টা আমরা মানব না। এই গুন্ডামি বন্ধ করবই।” মুম্বই পুলিশের তরফেও মোহিত গার্গ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা হামলার পিছনে, কী উদ্দেশ্য, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও বলিউডে একের পর শিল্পীর উপর হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তালিকায় রয়েছেন সলমন খান, সইফ আলি খান, রোহিত শেট্টির মত একাধিক জনপ্রিয় মুখ। এমনকি কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মার ক্যাফেও বারবার নিশানায় এসেছে।
সূত্রের খবর, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাং। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে অনিল পণ্ডিত ও অনিল হরমন সান্ধু নামে দুই বিষ্ণোই-ঘনিষ্ঠ এই হামলার কথা জানিয়েছেন। হিন্দিতে লেখা ওই পোস্টে বলা হয়েছে, “আমরা ওঁকে ফোন করেছিলাম, বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু উনি বোঝেননি। তাই আজ সবটা বুঝিয়ে দিলাম।” পাশাপাশি হুমকির সুরে লেখা হয়েছে, “মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যাঁরা আমাদের কথা শুনবেন না এবং সলমন খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁরাই পরবর্তী লক্ষ্য হবেন।”