ওঙ্কার ডেস্ক: ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে লালকেল্লায় ভাষণ দিতে অপারেশন সিঁন্দুর প্রসঙ্গে ভারতীয় সেনার কৃতিত্ব প্রসঙ্গে বক্তৃতা রাখেন প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ভারতীয় বায়ু সেনা, ভারতীয় জল সেনা ও পদাতিক বাহিনীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন প্রতিরক্ষায় ভারত এক নতুন নাজির গড়েছেন অপারেশন সিঁন্দুরের মধ্য দিয়ে। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ভারতের নিরাপত্তা আর সীমান্ত সুরক্ষা এখন দেশের দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ, একে তিনি আখ্যা দিলেন দেশের জন্য নতুন ‘নিউ নর্মাল’। পাশাপাশি তিনি পাকিস্তানের প্রসঙ্গ তুলে এনে বলেন সিন্ধু ন্দীর জলচুক্তিতে দেশের কৃষকেরা অনেক ক্ষতির মুখে পরছে। ছয় দশকের এই ক্ষতির পূণরাবৃত্তি হবে না।
জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই স্মরণ করলেন পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড এবং তার পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দেশের প্রতিরক্ষা কৌশল, সামরিক আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা পরিধি বিস্তারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। তিনি জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারত তার জাতীয় নিরাপত্তা ঢালকে সম্প্রসারণ, শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জ্ঞান ও বীরত্ব ভারতের জন্য অনুপ্রেরণা। সেই ভাবনা থেকেই দেশ বেছে নিয়েছে ‘সুদর্শনচক্র’ -এর পথ যা শক্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক। এই চেতনায় ভারত শিগগিরই শুরু করবে ‘সুদর্শনচক্র মিশন’ যা আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সমন্বয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
ভাষণের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল পাকিস্তান প্রসঙ্গ। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের একগুচ্ছ কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ফের স্পষ্ট করলেন ভারতের অবস্থান। তাঁর কথায়, সিন্ধু জলচুক্তি সম্পূর্ণ একপেশে ও অন্যায্য। এই চুক্তির ফলে ভারতের নদীর জল দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, অথচ ভারতের নিজস্ব কৃষকেরা বহু সময় পর্যাপ্ত জল পাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, গত সাত দশক ধরে এই চুক্তি দেশের কৃষকদের অকল্পনীয় ক্ষতি করেছে, আর সেই পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না। তিনি ঘোষণা করেন এখন থেকে ভারতের নদীর জল শুধুমাত্র ভারতের কৃষকদের অধিকারেই থাকবে, দেশের কৃষিই হবে এই জলের একমাত্র উপভোক্তা।
স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে আহ্বান জানান জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে প্রতিরক্ষা, কৃষি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে, যাতে ২০৩৫-এর লক্ষ্যমাত্রা শুধু পূরণই না হয়, বরং ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি সম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
