ওঙ্কার ডেস্ক: শুল্ক ইস্যুতে কার্যত ভারতের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যে শুল্ক চাপিয়েছিল, তা শুধু বহালই রাখা হয়নি, বরং আরও বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল আমদানি। এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে পরোক্ষভাবে মার্কিন শুল্ক ইস্যুর জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, দেশবাসী ও বিশ্বকে জানান শক্ত বার্তা। তিনি তাঁর ভাষণে আরও বলেন দেশকে পরিশোধিত শক্তির দিকে নিয়ে যেতে উদ্দ্যোগী সরকার।
মোদী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘ভারতকে কেউ আটকাতে পারবে না”। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ই বিশ্ববাজারে ভারতের যোগ্যতা প্রমাণের সেরা মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘‘এটাই ইতিহাস রচনার সময়। আমাদের বিশ্ববাজার শাসন করতে হবে, উৎপাদন খরচ কমাতে হবে, মানসম্মত পণ্যের মাধ্যমে ভারতের শক্তি প্রমাণ করতে হবে’’। তিনি সতর্ক করে দেন, যারা অন্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে তারা অনেক সমস্যার মুখে পড়ে, কখনও নিজেদেরই বিপদ ডেকে আনে। কিন্তু ভারত সেই পথে হাঁটবে না। তাঁর বার্তা, ‘‘মূল সমস্যা তখনই হয় যখন আমরা নিজেদের ওপর আস্থা হারাই। অন্যের ওপর নির্ভর করা শুরু করি। নিজেরাই বুঝতে পারি না কী ক্ষতি হচ্ছে। তাই আত্মনির্ভর হয়ে ওঠা ছাড়া কোনও উপায় নেই।’’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক চাপানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লি বিনা প্রতিক্রিয়ায় মেনে নেবে না। রাশিয়ার তেল কেনা নিয়েও ভারত এর আগেই যুক্তি ও অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফলে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়া প্রায় নিশ্চিত।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও ‘বিকশিত ভারত’-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, আত্মনির্ভর না হলে ভারত এইভাবে শত্রুপক্ষকে শিক্ষা দিতে পারত না। পহেলগাম হামলার জবাবে ভারতীয় সেনা যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আত্মনির্ভর ভারতের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। মোদীর আশ্বাস, আত্মনির্ভরতার এই ধারা বজায় রাখলেই খুব শিগগির ‘বিকশিত ভারত’ এর স্বপ্ন পূরণ হবে।
