তীর্থে গিয়ে নোংরা করে আসা, এটাই এতদিন দেখা গিয়েছে। কিন্তু কেদারনাথে এবার ছবিটা একেবারে উল্টো। গৌরীকুণ্ড থেকে কেদারনাথ মন্দির পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটারের কঠিন চড়াই ভাঙার পথে এখন অন্য দৃশ্য। পিঠে ব্যাগে ঠাকুরের প্রসাদ নয়, প্লাস্টিক ভর্তি বস্তা নিয়ে নিচে নামছেন পুণ্যার্থীরা। নিজেরাই হাত লাগিয়েছেন কেদারকে প্লাস্টিক মুক্ত করতে।
গত জুন মাসে স্থানীয় প্রশাসন ‘ক্যারি মি ব্যাক’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, কেদারনাথকে আবর্জনা মুক্ত করা। ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দির চত্বরে জমছিল টন টন প্লাস্টিক, জলের বোতল, প্যাকেট। উচ্চতা আর খারাপ আবহাওয়ার জন্য সাফাই কর্মীদের পক্ষে সেই বর্জ্য নিচে নামানো ছিল প্রায় অসম্ভব। তখনই প্রশাসন পুণ্যার্থীদের কাছে আবেদন জানায়, ফেরার সময় যে যার মতো কিছুটা করে বর্জ্য সঙ্গে নিয়ে নামুন।
সেই ছোট আবেদনই আজ বড় আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী ১২ টনেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য পাহাড় থেকে নামিয়ে এনেছেন। কেউ ৫ কেজি, কেউ ১০ কেজি করে বর্জ্য বয়ে আনছেন।
এই কাজে সামিল হয়েছেন সব বয়সের মানুষ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও আটকাতে পারেনি। মদন লাল নামে এক ব্যক্তি একটি হাত হারিয়েছেন, কিন্তু এক হাতেই আবর্জনার ব্যাগ নিয়ে গৌরীকুণ্ড পর্যন্ত নেমে এসেছেন।
গুরুগ্রাম থেকে আসা ২৮ বছরের অঙ্কিতা সিংহ তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে ৮ কেজি বর্জ্য নিচে নামিয়েছেন। তিনি বলেন, কেদারনাথ আসার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না, হঠাৎ করেই চলে আসা। কিন্তু এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হতে পেরে এক অন্যরকম শান্তি পেয়েছেন, যাকে তিনি ‘ঐশ্বরিক আনন্দ’ বলছেন।
প্রশাসনের মতে, পুণ্য অর্জনের পাশাপাশি প্রকৃতিকে রক্ষা করার এই বার্তাই কেদারনাথকে আরও পবিত্র করে তুলছে।