কেন গান্ধীর পথে ককরোচ
ককরোচদের আন্দোলনের কৌশল দেখে ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন করে গান্ধীজীর প্রাসঙ্গিকতা উঠে আসছে। এবং তা যে দেশের সর্ব প্রাচীন রাজনৈতিক মঞ্চকে ভাবিয়েছে তার স্পষ্ট ইংগিত ইতিমধ্যেই মিলেছে। শনিবারই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘সত্যাগ্রহ’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। অর্থৎ ঘুরে ফিরে সেই গান্ধীজীকেই স্মরণ করছে কংগ্রেস। যন্তর মন্তরে ককরোচদের বিগত আন্দোলনের কৌশল ও সাফল্য নিঃসন্দেহে গান্ধীজীকেই স্মরণ করায়। এবারও তারা এগোতে চাইছে সেই একই পথে। অর্থাৎ এত যুগ পরেও সেই গান্ধীজী, বর্তমান সমাজের নিরিখে, রাজনীতির নিরিখে তা যে আদর্শিক সেটা নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলছে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের। শুধু তাই নয়, গান্ধী বিরোধীদের কাছে গান্ধী-অস্ত্র কতটা ধারালো এবং শক্তিশালী তার প্রমাণ নিশ্চয়ই মিলেছে বিগত যন্তর মন্তরে।
আমরা দেখেছি, আজও বিশ্বজুড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করার লক্ষ্যে পরিচালিত অনেক আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত ও সংগঠিত করে চলেছে গান্ধীর ধারণা। বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর ‘সিংগিং রেভোলিউশন’ বা ‘গান-ভিত্তিক বিপ্লব’ থেকে শুরু করে ‘আরব বসন্ত’—এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যেখানে গণ-আন্দোলনগুলি গান্ধীর চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত হয়েছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ নিশ্চয়ই ‘ককরোচ’-এর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ। এবারও তারা আনছে গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ‘গান্ধীবাদী মডেল’।
ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গান্ধীজী পশ্চিমি ধাঁচের গণতন্ত্রের একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন, এটি ছিল জনগণকে শাসন করার নিছক একটি কৌশল মাত্র। তাই সংসদীয় ব্যবস্থাকে তিনি প্রকৃত রাজনৈতিক সত্তা বলে মান্যতা দেননি। বরং জনসমক্ষে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে নৈতিক দ্বিমত পোষণ করাটা ছিল স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক কাজ। তিনি বিশ্বাস করতেন, এই প্রক্রিয়াই গণতন্ত্রে প্রাণসঞ্চার করে এবং প্রকৃত স্বাধীনতার মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে। সেইসঙ্গে তিনি গণতন্ত্রকে কেবল আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার পক্ষপাতী ছিলেন না। বরং তিনি মনে করতেন, প্রতিটি সমাজে এটিকে একটি মৌলিক মূল্যবোধ হিসেবেই বজায় রাখা উচিত। তাঁর মতে, সাংবিধানিকীকরণের ফলে গণতন্ত্রের মূল চেতনা ক্ষুণ্ণ হয়; অথচ গণতন্ত্রের উচিত জনগণের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেঁচে থাকা। জেন-জি-দের তৎপরতা কী এই গান্ধীকে মনে করিয়ে দেয় না ?