ওঙ্কার ডেস্ক: নদিয়ার কালীগঞ্জে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত দশ বছরের তমন্না খাতুনের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামেই একটি স্কুল চালু করল সিপিএম। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্কুলের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, দলের অন্যান্য নেতা-কর্মী এবং এলাকার বহু বাসিন্দা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, মেয়েকে আর কখনও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁর মেয়ের মৃত্যু যেন সমাজে পরিবর্তনের এক বার্তা হয়ে ওঠে, সেটাই তাঁর একমাত্র ইচ্ছা। তিনি বলেন, “প্রাণ দিয়ে হলেও পরিবর্তন চেয়েছিলাম। চাই, আর কোনও মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।” তিনি জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমেই হিংসামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, তমন্নার নামে এই স্কুল প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়, বরং রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি প্রতীক তৈরি করা। দলের বক্তব্য, শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সম্প্রীতি, গণতন্ত্র এবং শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা তমন্নার মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিল চলাকালীন বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল দশ বছরের তমন্না খাতুনের। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। পরবর্তীকালে তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনও সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। তমন্নার নামে স্কুল প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে অনেকেই তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি শান্তি ও শিক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।