ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক হলেন আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ এবং বিধায়ক সঞ্জীব ঝা। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এই কর্মসূচি নেয় আপ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরকে কেন্দ্র করেই মূলত এই আন্দোলন।
আপের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোটারদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের আটক করার অভিযোগ তুলেছে আপ। সৌরভ ভরদ্বাজ এক্স-এ একটি পোস্টে জানান, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সত্ত্বেও তাঁকে এবং সঞ্জীব ঝাকে আটক করা হয়েছে। দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান ভরদ্বাজ। তাঁদের যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর কথাও বলেন তিনি।
একটি ভিডিয়ো বার্তাতেও আটক হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন আপ নেতা। তাঁর দাবি, বিক্ষোভের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে পুলিশ তাঁদের জানিয়েছে। যন্তর মন্তর নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বিক্ষোভের জন্য অনুমতির প্রয়োজন কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন ভরদ্বাজ। তাঁর দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ আগেই কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
বিক্ষোভকারীরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিতে সমর্থকদের ফের যন্তর মন্তরে আসার আহ্বান জানান।
এদিকে আপের রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিংকেও যন্তর মন্তরের দিকে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নর্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় তাঁকে পুলিশ আটকে দেয় বলে আপের তরফে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে শুক্রবার। যন্তর মন্তরের আশপাশের একাধিক মেট্রো স্টেশনেও প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখা হয় এদিন। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ১১টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ ছিল। তালিকায় রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং যন্তর মন্তরও রয়েছে। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে আপের অভিযোগ। যন্তর মন্তরে পৌঁছতে সমস্যায় পড়া কর্মী-সমর্থকদের জন্য ভরদ্বাজের পরামর্শ, যে স্টেশনগুলি চালু রয়েছে তার কাছাকাছি নেমে হেঁটে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছতে হবে।