ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে বহু মানুষ আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজের চাপে একাধিক বিএলও-ও নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। এই আবহে কবিতায় গর্জে উঠলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না নিলেও তাঁর লেখায় কেন্দ্রের মোদী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগেছেন অভিষেক, এমনটাই মত পর্যবেক্ষকদের।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখালিখি নিয়ে চর্চা হয় বিভিন্ন সময়ে। তাঁর লেখা বইয়ের বিক্রিও ভাল। কিন্তু লেখালিখির জগতে অভিষেক আত্মপ্রকাশ করলেন কবিতার মাধ্যমে। চলমান সময়ে মানুষের ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও যন্ত্রণাকে তিনি লেখায় ধারণ করেছেন। ‘আমি অস্বীকার করি’ শিরোনামে অভিষেক লিখেছেন—
আমি অস্বীকার করি
আমি অস্বীকার করি-এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব।
আমি অস্বীকার করি- রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ,
আমি অস্বীকার করি- রক্তের উপর কালির শাসন।
আমাদের বলা হল “নাম দাও”, “কাগজ দেখাও”
আর আমরা দিলাম ইতিহাস, মাটি, আর ঘাম-ঝরা জন্মভূমি।
তারা বললো “এগুলো যথেষ্ট নয়”
আমরা বললাম তবে বলো কোন ধারায় মৃত্যু বৈধ হল?
১৫০ (একশো পঞ্চাশ) এটা সংখ্যা নয়,
এটা রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার।
এ এক থেমে যাওয়া গান। এক মুছে যাওয়া মুখ।
রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান,
শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান।
যে দেশ জন্মেছিল আপোষহীন আন্দোলন ও প্রশ্নের আগুনে
সে দেশ নোয়াবে না মাথা ধর্মের শাসনে।
নাগরিকত্ব যদি বন্দি হয় কাগজের জালে
তবে মানুষ যাবে কোথায় সংবিধানের কালে?
যে আইন মানুষ ছেঁটে ফেলে, মানুষের প্রাণ নেয় কেড়ে
সে আইন; আইন নয়
সে আইন ফাঁসি।
আমি শান্তি চাই না – অন্যায়ের সঙ্গে! আমি নীরবতা চাই না লাশের উপর!
যারা চুপ থাকে এই মুহূর্তে, তারাই ইতিহাসে অপরাধী স্তব্ধ স্বর
আমি শুধু একজন মানুষ নই আজ আমি সাক্ষী, আর সাক্ষী
যখন কথা বলে সিংহাসন তখন কাঁপে।
আর ইতিহাস সে ক্ষমা করে না, তালিকা পড়ে না।
ইতিহাস মনে রাখে
কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল,
কে দাঁড়িয়েছিল, আর কে আগুন লাগিয়েছিল!
যে শাসক অহঙ্কারে কথা বলে
যে শাসক মানুষের কথা শোনে না
যে ক্ষমতা মানুষকে তুচ্ছ করে, ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।
