অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: আলিপুর চিড়িয়াখানার পর এবার নিউটাউনের মিনি জু হরিণালয়েও দেখা যাবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে বাঘ আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও।
শুক্রবার নিউটাউনের হরিণালয় পরিদর্শন করেন বনমন্ত্রী। পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পর তিনি জানান, বাঘ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় এনক্লোজার তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এরপর সেন্ট্রাল জু অথরিটি বা সিজেডএ-র কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করা হবে। অনুমতি মিললেই বাঘ আনা হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্ক থেকে বাঘ আনা হতে পারে। পরে পরিস্থিতি বুঝে বাঘের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
ইকো পার্কের ৬ নম্বর গেটের কাছে প্রায় সাড়ে ১২ একর জমির উপর তৈরি হয়েছে এই মিনি জু। বর্তমানে সেখানে হরিণ, জিরাফ, শিম্পাঞ্জি-সহ নানা প্রাণী রয়েছে। বাঘের জন্য তৈরি বিশেষ এনক্লোজারের ৭০ শতাংশের বেশি অংশ খোলা রাখা হয়েছে। ভিতরে বিশ্রামের জন্য গুহা, ঘোরাফেরার জায়গা, কাচের দেওয়াল ও লোহার বেড়া দিয়ে ঘেরা দর্শকদের দেখার ব্যবস্থা এবং উপরে বিদ্যুৎচালিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদিও ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও হরিণালয়ে বাঘ আনার পরিকল্পনা হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ছাড়া বাঘিনিটি অসমের রায়মনা জাতীয় উদ্যানের জঙ্গলে চলে যাওয়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিহারের বাল্মিকী ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে এনে বক্সায় বাঘ ফেরানোর প্রকল্পের অংশ হিসেবে তাকে ছাড়া হয়েছিল। প্রথম কয়েকদিন বক্সার জঙ্গলেই থাকলেও ট্র্যাকিং ডিভাইসে দেখা যায়, সে ধীরে ধীরে অসম সীমান্তের দিকে চলে গিয়েছে। বর্তমানে রায়মনার গভীর জঙ্গলে সুস্থ অবস্থাতেই রয়েছে বাঘিনিটি।
বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে অসমের বনদপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। বক্সা ও রায়মনা একই ল্যান্ডস্কেপের অংশ হওয়ায় বাঘের এই চলাচল স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বনকর্তারা। তবে বাঘিনিটিকে ফের বক্সায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।