ওঙ্কার ডেস্ক: আমেদাবাদের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই জ্বালানির সুইচ নিয়ে মুখ খুলল আমেরিকার ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। একই সঙ্গে পৃথকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিমান নির্মাতা সংস্থা বোয়িংও। দু’পক্ষই স্পষ্ট করেছে, বোয়িংয়ের বিমানগুলির জ্বালানি নিয়ন্ত্রণের সুইচে থাকা ‘লকিং সিস্টেমকে সুরক্ষিত বলেই মনে করছে এফএএ। ফলে কোনও মডেলের ক্ষেত্রেই জ্বালানি সুইচের নকশা বা পদ্ধতি সংস্কারের প্রয়োজন নেই বলেই জানিয়েছে তারা।
গত ১২ জুন আমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে উড়তে গিয়ে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ মডেলের বিমান এআই ১৭১। রানওয়ে ছাড়ার কয়েক মুহুর্তের মধ্যে এক মেডিকেল কলেজের ছত্রাবাসে ধাক্কা মেরে ভেঙে পড়ে বিমানটি। ২৪২ জন যাত্রী-সহ মোট ২৬০ জনের প্রাণ যায় সেই দুর্ঘটনায়। প্লেন ক্রাশের এক মাসের মাথায় ভারতের এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)-এর প্রাথমিক রিপোর্টে জ্বালানির সুইচে ত্রুটিকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তকারীরা ককপিটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, উড়ান শুরুর পরই সুইচ ‘রান’ থেকে ‘কাটঅফ’ এ চলে যাওয়ায় ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে যায় দুটি ইঞ্জিনই। পাইলটদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইঞ্জিন আর চালু করা সম্ভব হয়নি। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই ফের চর্চা শুরু হয়েছে এফএএ-র সাত বছর আগের এক সতর্কবার্তাকে ঘিরে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এফএএ বোয়িং ৭৩৭ মডেলের বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ নিয়ে স্পেশ্যাল এয়ারওয়র্দিনেস ইনফরমেশন বুলেটিন (এসএআইবি) জারি করেছিল। তাতে কিছু বিমানে সুইচের লকিং ফিচারে বিচ্ছিন্নতা থাকতে পারে বলে জানানো হয়। তবে সেটি আইনগত ভাবে বাধ্যতামূলক সেটা নিয়ে কোনও নির্দেশিকা দেওয়া ছিল না।
আমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, সেই উপদেশাবলিকে গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানির সুইচ পরীক্ষা করলে হয়তো এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। যদিও এফএএ তাদের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বোয়িংয়ের কোনও মডেলের ক্ষেত্রে জ্বালানির সুইচ নিয়ে এমন জটিলতামূলক নির্দেশিকা জারি করার মতো গুরুতর নয়। ফলে সুইচের ‘লকিং সিস্টেম’ অপরিবর্তিতই থাকছে তাদের নির্দেশিকাতে। বোয়িংও একই বার্তা পাঠিয়েছে বিভিন্ন বিমান সংস্থার কাছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনা প্রশ্ন তুলেছিল বিমান নিরাপত্তা পরিকাঠামোর জটিল দিকগুলি নিয়ে। প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে আসা তথ্য এবং অতীতের সতর্কবার্তার মধ্যে ফারাক নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। আন্তর্জাতিক মহলে এখন নজর চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের দিকে, যা হয়তো ভবিষতে এ ধরনের বিমান দুর্ঘটনা রুখতে বিভিন্ন নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
