ওঙ্কার ডেস্ক : ১২ জুন আমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার জেরে বড় সিদ্ধান্ত নিল এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থার তরফে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পরবর্তী বিভিন্ন গাফিলতি ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে ২১ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ের জন্য ১৬টি আন্তর্জাতিক রুটে কমানো হচ্ছে ফ্লাইটের সংখ্যা, এবং ৩টি রুটে সাময়িকভাবে পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের যেন শেষ মুহূর্তে বিপাকে না পড়তে হয়, সেই কারণেই আগাম পরিকল্পনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্থার তরফে এই অস্বস্তির জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে।
বিবৃতি তে উল্লেখিত যে তিনটি রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে সেগুলি হল, দিল্লি–নাইরোবি, অমৃতসর–লন্ডন (গ্যাটউইক), এবং গোয়া (মোপা)–লন্ডন (গ্যাটউইক)। সপ্তাহে তিন থেকে চারটি করে বিমানে উড়ত এই রুটগুলিতে। এই পথে আপাতত সম্পূর্ণ বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত যেসব অঞ্চলে প্রভাব ফেলছে, তার মধ্যে রয়েছে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং পূর্ব এশিয়া। দিল্লি থেকে টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, সান ফ্রান্সিসকো, শিকাগো ও ওয়াশিংটনের মতো উত্তর আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি কমানো হচ্ছে।
ইউরোপে দিল্লি–লন্ডন (হিথ্রো), বেঙ্গালুরু–লন্ডন, অমৃতসর ও দিল্লি থেকে বার্মিংহাম, প্যারিস, মিলান, কোপেনহেগেন, ভিয়েনা ও আমস্টারডামের মতো রুটগুলিতেও কমানো হচ্ছে বিমান সংখ্যা।
অস্ট্রেলিয়া ও পূর্ব এশিয়ায় দিল্লি থেকে মেলবোর্ন, সিডনি, টোকিও (হানেদা) ও সিওল (ইঞ্চন)-এর মতো শহরে কমবে ফ্লাইটের সংখ্যা।
সংস্থার ব্যাখ্যা, এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হচ্ছে উন্নত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানোর জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন, সেই সঙ্গে মধ্য এশিয়ার কিছু আকাশপথ বর্তমানে সীমিত থাকায় ফ্লাইটের মেয়াদ দীর্ঘ হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িক এই বদল। যদিও যাত্রীরা এতে ভোগান্তির মুখে পড়বেন, তবে সংস্থার দাবি, দীর্ঘমেয়াদে যাতে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা দেওয়া যায়, সেটাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই সাময়িক ব্যবস্থা চালু থাকবে।
