ওঙ্কার ডেস্ক: অন্ধকার আকাশে জেগে উঠেছে এক নতুন ধরনের যোদ্ধা। যুদ্ধ বিমানের মতো আওয়াজ বা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আলোর ঝলকানি নয় এটি এক অদৃশ্যবর্ম ‘আকাশ-তির’। ৯ ও ১০ মে রাতে যখন পাকিস্তান ভারতীয় সামরিক বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শুরু করেছিল, তখন এই অদৃশ্য ঢাল বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আক্রমন প্রতিহত করেছিল। আকাশ-তির পুরোপুরি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং এর এয়ার ডিফেন্স কন্ট্রোল অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়, যা যে কোনও আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারে।
এটি শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা নয়, এটি হল বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা আত্মনির্ভর ভারতের অঙ্গীকার। বিদেশ থেকে আমদানি করা পাকিস্তানের এইচকিউ-৯ এবং এইচকিউ-১৬ যখন ভারতের হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, তখন ভারতের আকাশ-তিরের ক্ষমতার প্রদর্শন দেখা গেছে।
আকাশ-তির তার লক্ষ্যবস্তুকে দেখতে পায়, নিশানা স্থির করে এবং বিশ্বের যে কোনও কিছুর চেয়ে দ্রুতগতিতে আক্রমণ করতে পারে। এর সংবেদী ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ট্যাকটিক্যাল কন্ট্রোল রাডার রিপোর্টার, ৩ডি ট্যাকটিক্যাল কন্ট্রোল রাডার, হালকা রাডার এবং আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার রাডার।
আকাশ-তির : অপ্রতিরোধী রাডার থেকে সূক্ষ্মবুদ্ধির লড়াই
আকাশ-তির নৃশংস কোনও বাহিনী নয়, এটি হল সূক্ষ্ম বুদ্ধির যুদ্ধ। এতে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের (কন্ট্রোল রুম, রাডার এবং ডিফেন্স গান) প্রকৃত ছবি ধরা পড়ে। এটি শত্রুপক্ষের যুদ্ধ বিমান, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে চিহ্নিত করে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাডার ব্যবস্থা, সেন্সর এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি। আকাশ-তির বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, সেগুলিকে যাচাই করে এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়। আকাশ-তির হল একটি বৃহত্তর সি৪আইএসআর (কম্যান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন, কম্পিউটার, ইন্টেলিজেন্স, সার্ভিলেন্স ও রিকনেইস্যানস)-এর বৃহত্তর কাঠামোর একটি অংশ। এই পুরো ব্যবস্থাটি গাড়ির ওপর বসানো থাকে। যার ফলে, এটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করতে পারে এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে পারে। ফলে স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনী এটি সহজে ব্যবহার করতে পারে।
ভারতীয় সেনার আকাশ প্রতিরক্ষা (এএডি) ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে আকাশ-তির। এটি আইএসিসিএস (ভারতীয় বায়ুসেনা) এবং ট্রি-গান (ভারতীয় নৌবাহিনী)-কে নিপুণভাবে যুক্ত করে এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রের স্পষ্ট ও নিখুঁত ছবি পাঠায়। এতে রয়েছে আক্রমণ এবং প্রতিরোধের অস্ত্র ব্যবস্থা।
আকাশতিরের মাধ্যমে তিন বাহিনী একসঙ্গে কাজ করার ফলে নির্ভুল লক্ষ্যে নিশানার ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম থাকে।
আকাশ-তির হল মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের প্রতীক, যা সামরিক ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির বার্তা দিচ্ছে। এর উন্নত সামরিক প্ল্যাটফর্মের মধ্যে রয়েছে ধনুষ আর্টিলারি গান সিস্টেম, মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক (এমবিটি) অর্জুন, লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এলসিএ) তেজস, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (এএলএইচ), অস্ত্র চিহ্নিতকারী রাডার, ৩ডি ট্যাকটিক্যাল রাডার প্রভৃতি।
২০২৯ সালের মধ্যে ভারত ৩ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকবে বেসরকারি ক্ষেত্রেরও। মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ২১ শতাংশ বেসরকারি ক্ষেত্রের অধীনে থাকবে। এই শক্তিশালী উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে ১৬টি ডিপিএসইউ, ৪৩০টির বেশি লাইসেন্স প্রাপ্ত সংস্থা এবং প্রায় ১৬,০০০ এমএসএমই।
ভারতে প্রতিরক্ষা সামগ্রীর ৬৫ শতাংশই এখন দেশে তৈরি হয়। আগে ৬৫ – ৭০% বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো।
আকাশ-তির ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারত স্বয়ংক্রিয় এয়ার ডিফেন্স, কন্ট্রোল ব্যবস্থার এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেছে। এটি শুধুমাত্র দ্রুত দেখতেই পায় না, সেই সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এবং যে কোনও জায়গায় দ্রুত আঘাত হানে। অপারেশন সিঁদুরের সময় আকাশতির সাফল্যের সঙ্গে পাকিস্তানের বহু আক্রমণ প্রতিহত করেছে। অপারেশন সিঁদুর ভারতের উদ্ভাবন শক্তিকে তুলে ধরেছে, যা প্রকৃত অর্থে আত্মনির্ভর।
