নিজস্ব সংবাদদাতা, চেন্নাই: রাজধানীর যন্তর মন্তরে সদ্য গঠিত দল সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি পদক্ষেপ এবং আদালতে জামিন সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই। তাঁর অভিযোগ, গেরুয়া শিবির এই নতুন দলের বিরোধিতার নামে আসলে তাদের জাতীয় পরিচিতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বুধবার এক্স-এ এক দীর্ঘ পোস্টে পাঁচ দফা প্রশ্ন তোলেন আন্নামালাই। তাঁর বক্তব্য, সিজেপি যখন যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি চায়, তার ঠিক পরেই প্রশাসন ওই জায়গাটিকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেয় কেন? দিল্লি পুলিশের একজন এসিপি কীভাবে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা নিয়ে আটক করার নির্দেশ দিতে পারেন? ১৩ তারিখে আটক হওয়া ব্যক্তিদের জামিনের আবেদনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ১৯ তারিখে এত দেরিতে কেন হাজির হলেন এবং নিরাপত্তার অজুহাতে কেন সরে গেলেন? আটজনের জামিনদারকে বাতিল করে জিজ্ঞাসাবাদের যুক্তি কী? আর নিট আন্দোলনের সময় পুলিশের পেলেট গান ব্যবহার নিয়ে কোনও তদন্ত হয়েছে কি না, তাও জানতে চান তিনি।
আন্নামালাইয়ের মতে, বিরোধী ভোটে ভাগ বসাতে ইচ্ছাকৃতভাবে সিজেপিকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি দলের বিধায়ক অশোক গোয়েলের দশেরার দিন আরশোলার প্রতীক পোড়ানোর ঘটনা উল্লেখ করেন। তাঁর কটাক্ষ, এভাবে প্রচার করে বিজেপি সিজেপির জন্য বিনা পয়সার জনসংযোগের কাজ করে দিচ্ছে।
পোস্টে ২০১১ সালে রামলীলা ময়দানে পুলিশি অভিযানের সময় তৎকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিক্রিয়াও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। তখন মোদী বলেছিলেন, তাঁর হাত বাঁধা না থাকলে তিনি দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করতেন। আন্নামালাই জানান, তিনি ৫ জুন ২০২৬ বিজেপি ছেড়েছেন। হাই কোর্টের হস্তক্ষেপেই সিজেপি কর্মীরা মুক্তি পেয়েছেন। তিনি সিজেপির কর্মপদ্ধতির সঙ্গে একমত না হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করেন।
এই মন্তব্যের পরেই সরব হয়েছে বিজেপি। তামিলনাড়ুতে দলের মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি বলেন, দল ছাড়ার পর থেকেই আন্নামালাইয়ের অবস্থান বদলে গেছে। আগে তিনি ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী কর্মসূচি এসআইআর-কে সমর্থন করতেন, মে মাসে শশী থারুরের সঙ্গে বিতর্কেও সেই পক্ষ নিয়েছিলেন, এখন তার উল্টো কথা বলছেন। তিরুপতির বক্তব্য, প্রতিবাদ যখন আইনের সীমা ছাড়ায়, তখন পুলিশকে পদক্ষেপ নিতেই হয়, একজন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হিসেবে আন্নামালাইয়ের এই বিষয়টি বোঝা উচিত এবং তাঁর কাছ থেকে আরও ধারাবাহিকতা আশা করা যায়।