অর্পিতা মুখার্জী, শমসেরগঞ্জ: গাইঘাটার পর এবার শমসেরগঞ্জ। ফের পুলিশের গুলিতে মৃত্যু অভিযুক্তের। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল সুজিত মণ্ডল খুনে অভিযুক্ত সামাউন শেখের। একই দিনে পর পর দুটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।
পুলিশ সূত্রে খবর, সুজিত খুনের তদন্ত করছিল রাজ্য সিআইডি। মঙ্গলবার অভিযুক্ত সামাউনকে নিয়ে শমসেরগঞ্জ থানার পুরাতন ডাকবাংলা এলাকায় যেখানে সুজিতকে খুন করা হয়েছিল, সেখানে পুনর্নির্মাণে যায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, সেই সময় এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সামাউন। পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায় সে। পাল্টা গুলিতে জখম হয় অভিযুক্ত। তড়িঘড়ি জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, “খুনের ঘটনার তদন্ত করছিল সিআইডি। আজ ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনই গুলি চলার ঘটনা ঘটে। এর বেশি এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ অগস্ট রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন পুরাতন ডাকবাংলা এলাকার বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল। পরে তাঁর খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার হয়। ধুলিয়ানে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস হত্যার সঙ্গে এই ঘটনার তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পশুর মাংস কাটার ছুরি দিয়ে সুজিতকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় সামিউল শেখ, তাজকিরা বিবি ও জনি শেখকে আগেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর ঠিক আগের রাতে গাইঘাটায় একই কায়দায় মৃত্যু হয় কিশোরী ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের। পুলিশের দাবি, সোমবার রাত ১২টার কিছু আগে পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে বৈদ্যবাড়ি এলাকায় প্রস্রাবের অজুহাতে গাড়ি থামিয়ে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে তিন রাউন্ড গুলি চালায় প্রহ্লাদ। পাল্টা চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ, একটি গুলি লাগে তার গায়ে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা প্রহ্লাদকে মৃত ঘোষণা করেন। বিগত চার মাসের মধ্যে বারুইপুরের পর গাইঘাটা ও শমসেরগঞ্জ, পরপর এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।