
প্রাইমা হোসেন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন – কবে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা ? এই প্রশ্ন শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নয়, ১৮ কোটি সাধারণ মানুষের। গ্রাম থেকে শহর – সর্বত্র একটাই আলোচনা, শেখ হাসিনা ছাড়া দেশ চলছে না। গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, কমনওয়েলথের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমনওয়েলথ সবসময় গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ কমনওয়েলথের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের এই সংকটে কমনওয়েলথ নীরব থাকতে পারে না।
কেন শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশ শূন্য ? এই তত্ত্বটি আমার নয়, এটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কথা। গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, আজ তার সবকিছু ধসে পড়েছে। অর্থনৈতিক তত্ত্বে বলে – উন্নয়ন মানে স্থিতিশীলতা। শেখ হাসিনার আমলে জিডিপি ছিল ৭% এর উপরে, রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, দারিদ্র্যের হার ৪০% থেকে ১৮% এ নেমেছিল। আজ রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন, ডলার ১২৪ টাকা, জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। মানুষ তাই বলছে, শেখ হাসিনা বিহীন অর্থনীতি মানে শূন্য।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো দেশে গণতান্ত্রিক সংকট চরমে পৌঁছায়, তখন তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কমনওয়েলথ এর আগেও জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, ফিজিতে সফল মধ্যস্থতা করেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ নেতাকর্মী জেলে, একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচনের আয়োজন করেছে। বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক দেশ এটাকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলবে না। তাই বিশ্বের গণতান্ত্রিক সম্প্রদায় চায় – আওয়ামী লীগ সহ সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন।
এই নির্বাচনের প্রথম শর্তই হল- শেখ হাসিনার নিরাপদ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। তাকে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এ কারণেই ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে হয়নি। নিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দলেই তাদেরকে কৌশল করে নির্বাচনের বাহিরে রাখা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাহিরে রেখে যে নির্বাচন হবে তা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কখনোই বলা যায় না এবং হয়নি।
জনগণের মতামতই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় তত্ত্ব হল- – সার্বভৌমত্ব জনগণের হাতে। জনগণ যাকে চায়, তাকেই দেশ পরিচালনা করতে দিতে হবে। আজ আপনি যে কোনো চায়ের দোকানে, বাসে, লঞ্চে যান – মানুষ একটাই কথা বলবে, “আগেই ভালো ছিলাম। শেখ হাসিনার আমলেই ভালো ছিলাম।” মানুষ নিরাপত্তা চায়, মানুষ ভোটাধিকার চায়, মানুষ উন্নয়ন চায়। এই তিনটি জিনিস একমাত্র শেখ হাসিনাই দিতে পেরেছেন। তাই সাধারণ জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে, বিশ্বের গণতান্ত্রিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসুক – এটাই ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি।
ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৮১ সালে এবং ২০০৭ সালে সকল ষড়যন্ত্র ভেদ করে শেখ হাসিনা ফিরে এসেছিলেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। কমনওয়েলথের মধ্যস্থতা হোক বা জনগণের চাপে – শেখ হাসিনাকে ফিরতেই হবে। কারণ শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ শূন্য। আর শূন্য দিয়ে কোনো দেশ চলে না।
লেখিকা আমেরিকার মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সংগঠক