ওঙ্কার ডেস্ক: সঙ্কটে ভুগতে থাকা অর্থনীতি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রদেশগুলোতে বিক্ষোভ চলাকালীন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ বিক্ষোভকারীকে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনির নেতৃত্বাধীন ইসলামিক শাসনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমন করতে আরও কড়া পদক্ষেপ করতে দেশটির প্রশাসন। সাত জনের মৃত্যু সেই কঠোর পদক্ষেপের সূচনা। ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও গত কয়েকদিনে দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সামিল হওয়ার কারণে ইরানি কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, ‘নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযানের পর, পশ্চিম তেহরানের মালার্ড জেলায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩০ জনকে গত রাতে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে।’ ইরানে বিক্ষোভের বেশ কয়েকটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছে আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনির বিরুদ্ধে। কেউ স্লোগান দিয়েছেন, ‘যতক্ষণ মোল্লাকে কাফন পরানো না হবে, এই মাতৃভূমি স্বাধীন হবে না’। আবার কারো মুখে স্লোগান ছিল, ‘মোল্লাদের অবশ্যই ইরান ছাড়তে হবে।’
রিপোর্ট অনুসারে, ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ এটি। এর আগে ২২ বছর বয়সী মাহশা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছিল। তবে, সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ এখনও গোটা ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েনি।
ঠিক কী ঘটছে ইরানে?
গত ২৭ ডিসেম্বর রবিবার তেহরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত। যেখানে দোকানদাররা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রতিবাদে ধর্মঘট করেন। সেই ধর্মঘটের আঁচ ছড়িয়ে পড়তে থাকে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার একটি রিপোর্ট অনুসারে, বুধবার দু’জন এবং বৃহস্পতিবার পাঁচ জন-সহ মোট সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের লুর জনগোষ্ঠী বসবাস করে এমন চারটি শহরে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।বিক্ষোভ সবচেয়ে সহিংস হয়েছে ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে। তেহরান থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮৫ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই শহরটি। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে রাস্তার ওপর জিনিসপত্র জ্বলছে। শোনা গিয়েছে গুলির শব্দও।
