ওঙ্কার ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়ায় তিন তরুণীকে যৌন নির্যাতন ও মর্মান্তিক হত্যালীলার লাইভ টেলিকাস্ট করলো দুস্কৃতীরা। এই ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা। শনিবার ওই তিন তরুণীর উপর নির্যাতন ও হত্যার বিচার চেয়ে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের পথে নামল হাজার হাজার মানুষ। নিহতদের স্বজন ও পরিচিতরা মৃত তিন তরুণীর ছবি ও নাম লেখা ব্যানার উঁচিয়ে সংসদের পথে বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হন। বিক্ষোভে যোগ দেয় নানান নারীবাদী সংগঠনও।
ঘটনার পাঁচদিন পর, বুধবার বুয়েনস আইরেসের দক্ষিণ উপকণ্ঠে একটি বাড়ির উঠোনে মোরেনা ভার্দি, ব্রেন্ডা দেল ক্যাস্টিলো এবং লারা গুতেরেসের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বুয়েনস আইরেস প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অপরাধীরা পুরো ঘটনার লাইভ দেখায়। ওই অ্যাকাউন্টের ৪৫ জন সদস্য তা চাক্ষুস করে।

শুক্রবার জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী প্যাট্রিসিয়া বুলরিচ ফিফ্থ অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে তিনজন পুরুষ এবং দু’ জন মহিলা। ইতিমধ্যে ওই অপরাধচক্রকে গাড়ি দেওয়ার অভিযোগে বলিভিয়ার সীমান্তবর্তী শহর ভিলাজোনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। প্রশাসনের তরফে এই ষড়যন্ত্রের মূল চক্রী ২০ বছর বয়সি পেরুভিয়ানের একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যে এখনও পলাতক।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১৯ সেপ্টেম্বর একটি পার্টিতে যাওয়ার নাম করে ওই তিন নির্যাতিতাকে একটি ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বুয়েনস আইরেস প্রদেশের নিরাপত্তামন্ত্রী জাভিয়ের আলোনসো জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এক ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ ভিডিওটির হদিশ পায়। ওই ভিডিও ফুটেজে এক গ্যাং লিডারকে বলতে শোনা যায়, “যারা আমার কাছ থেকে মাদক চুরি করে তাদের সঙ্গেই এমন হয়।” আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, অপরাধীরা নির্যাতিতাদের আঙুল কেটে, নখ উপড়ে, মারধর করে শ্বাসরোধ করেছে। তদন্ত চলাকালীন ওই সোশ্যাল মিডিয়া জানিয়েছে, এমন কোনো লাইভ প্রোগ্রামের প্রমাণ তারা পায়নি। তবে ওই সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্ম থেকে এই ধরণের ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। তারা এই তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করে চলেছে বলে জানান হয়েছে।
