নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সাফল্য উদযাপনে স্থানীয় তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে অশোকনগরে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ মিছিলের । আর এই মিছিল শেষেই ঘটে যায় এক অদ্ভুত কাণ্ড! দলের এক মহিলা কর্মীকে আকস্মিক ‘ফ্লাইং কিস’ দিতে দেখা যায় অশোকনগরের রোমান্টিক বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীকে ! মুহূর্তের মধ্যে বিধায়কের ‘ফ্লাইং কিস’ দেওয়ার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়,তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
জানা গিয়েছে, এদিন অশোকনগরের শেরপুর এলাকা থেকে একটি মিছিল তিন নম্বর রেলগেট হয়ে মানিকতলা পর্যন্ত যায়। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে উপকৃত মহিলাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মিছিলে পা মেলান স্থানীয় বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। মিছিল শেষের পর দলীয় এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় ইয়ার্কির ছলে ‘ফ্লাইং কিস’ দেওয়ার একটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়। সেই ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের সূত্রপাত। বিরোধীদের অভিযোগ, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ শোভনীয় নয়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বাম নেতা আকাশ কর। তাঁর দাবি, এর আগেও বিভিন্ন মহিলাদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন বিধায়ক। ফের এমন ঘটনায় অশোকনগরের মানুষ বুঝতে পারছেন কাকে বিধায়ক করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনে অশোকনগর বাসি আর তাকে ফ্লাইং কিস দেবে বলে মনে হয় না বলেই কটাক্ষ করেন এই বিরোধী নেতা।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনায় অশোকনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি একটি পোস্ট করে লেখেন,
“বাহঃ রে তৃণমূল বাহঃ।
মহিলাদের প্রতি তৃণমূলের আচরণ চিরাচরিত – তা সন্দেশখালিতে তৃণমূলের নেতা দ্বারা অত্যাচারিত মা বোন হোক বা তৃণমূলের মন্ত্রী দ্বারা রাষ্ট্রপতির অপমান বা বোলপুর থানার আইসি-র স্ত্রী ও মা-কে জড়িয়ে অশ্লীল ও অশোভনীয় মন্তব্য, কিংবা কসবা ল’কলেজে তৃণমূল নেতার কীর্তি সবেতেই তৃণমুল এগিয়ে। লিস্ট লম্বা হবে সব তথ্য দিতে গেলে।
নিচে দেওয়া ভিডিওটি গত ২৪শে ফেব্রুয়ারির অশোকনগরের। ওখানকার কীর্তিমান বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী ওনার দলের মহিলা কর্মীর দিকে অশ্লীল অঙ্গ ভঙ্গি করছেন যা দৃশ্যমান।
আমি পশ্চিমবঙ্গের মা বোনেদের বলবো আগামীদিনে এই চরিত্রহীন মানুষদের বর্জন করতে এগিয়ে আসুন। একটা সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে এই নির্লজ্জ সরকারকে ঝাঁটিয়ে বিদায় দিন।
সময় এসেছে মা ভবানীর রূপ ধারণ করার। ’’
সূত্রের খবর, আগেও মহিলাদের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। তার এই ধরনের নানা কাজ নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বকুনিও খেতে হয়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। সব মিলিয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডার মিছিলের পর ‘ফ্লাইং কিস’ বিতর্কে সরগরম অশোকনগর। এখন দেখার, এই ঘটনায় শাসকদল বা সংশ্লিষ্ট বিধায়কের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয় ভোট বৈতরণীর পার হওয়ার আগে।
