ফ্লাইদুবাইয়ের ইজরায়েলগামী বিমানে কো-পাইলটের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা এবার প্রকাশ্যে। যদিও একটি পরিকল্পনাও সফল হয়নি। তবে পরিকল্পনামাফিক ঘটনা ঘটলে মৃত্যু হতে পারত কয়েক-শো মানুষের।
অভিযুক্ত ওমানি নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি এখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে রয়েছে। তারাই তদন্ত করছে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, গোয়েন্দাদের জেরায় নিজের পুরো ছক স্বীকার করেছে হামাম। সে জানিয়েছে, ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে খুন করে বিমানটি ক্র্যাশ করানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
তদন্তকারীদের হামাম জানিয়েছে, তার প্রথম টার্গেট ছিল তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। পরিকল্পনা ছিল, সেখানে পৌঁছে রানওয়েতে থাকা অন্য কোনও বিমানে ধাক্কা মারা। তা সম্ভব না হলে তেল আভিভ শহরের কোনও উঁচু বহুতলে বিমান ঢুকিয়ে দিত। তাতেও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। গোয়েন্দাদের অনুমান, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় আল-কায়দার হামলাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, বিমান জর্ডনের আকাশসীমার কাছাকাছি আসতেই হামাম তার পরিকল্পনা কার্যকর করতে শুরু করে। তার আগে পর্যন্ত কাউকে কিছু বুঝতে দেয়নি। জর্ডন পেরিয়েই বিমানটির ইজরায়েলে ঢোকার কথা ছিল। সেই সময় ককপিটের ভিতরেই ক্যাপ্টেন স্মিতের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় সে। হামামের ছক ছিল, স্মিতকে মেরে ফেলার পরও বিমানটি স্বাভাবিকভাবে তেল আভিভ পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে যাবে, যাতে ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি পেতে কোনও সমস্যা না হয়। তার বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি ছিল। বিমানবন্দরে সংঘর্ষ না ঘটাতে পারলে শহরের বহুতলে হামলা, এমনকী জর্ডনে থাকা কোনও আমেরিকান সেনা ঘাঁটিতেও বিমান নিয়ে আছড়ে পড়ার কথা ভেবে রেখেছিল সে। কিন্তু সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেন ক্যাপ্টেন স্মিত।
গুরুতর জখম হয়েও হাল ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট। রক্তাক্ত অবস্থায় কোনওমতে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। যাত্রীরা ঢুকে পড়ে হামামকে কাবু করেন। বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা অন্য দুই পাইলট ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করান। অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে দেখে মরিয়া হয়ে বিমানের অটোপাইলট এবং দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ করে দেয় হামাম। ফলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বিমানটি। তবে যাত্রী আসনে থাকা দুই ‘দেবদূত’ পাইলটের উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত বিরাট বিপর্যয় থেকে বিমানটিকে রক্ষা করেন।