ওঙ্কার ডেস্ক: বালুচিস্তানে একযোগে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র ধারাবাহিক আক্রমণে নিরাপত্তাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও সাধারণ নাগরিক মিলিয়ে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আহতের সংখ্যা আরও অনেক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা প্রদেশ জুড়ে জারি করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চলছে তল্লাশি ও অভিযানের ঝড়। বিএলও ইতিমধ্যেই এই হামলার দুই আত্মঘাতী বোম্বারের ছবি প্রকাশ করে হামলার পুরো দায় স্বীকার করেছে।
বিএলএ প্রকাশ্যে দুই মহিলা জঙ্গির ছবি প্রকাশ করেছে, যারা আত্মঘাতী অভিযানে অংশ নিয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের। এই ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলাগুলি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সমন্বিত। একাধিক সামরিক ঘাঁটি, গোয়েন্দা দফতর, চেকপোস্ট ও সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ চালানো হয়। কোথাও গাড়ি বোমা, কোথাও আত্মঘাতী হামলার কৌশল নেওয়া হয়েছে। রাতভর গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। বহু জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, বন্ধ রাখা হয় স্কুল-কলেজ ও বাজার।
পাকিস্তান সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, হামলার জবাবে বৃহৎ পাল্টা অভিযান শুরু করেছে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী। সন্দেহভাজন জঙ্গি ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে বহু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে খতম করার দাবি করেছে প্রশাসন। তবে পরিস্থিতি এখনও থমথমে। যে কোনও মুহূর্তে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বালুচিস্তান বহু বছর ধরেই অস্থিরতার কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে অধিক স্বায়ত্তশাসন ও অধিকার দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি। মাঝেমধ্যেই সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ, বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা সামনে আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই আক্রমণকে সাম্প্রতিক কালের অন্যতম বড় ও প্রাণঘাতী হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাসিন্দারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন মরিয়া হলেও শান্তি ফেরাতে এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে বালুচিস্তান।
