ওঙ্কার ডেস্ক: পুণের পুরসভা নির্বাচনের আগেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় এক অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত ঘটনার সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। পুণের কুখ্যাত দুষ্কৃতী সুর্যকান্ত ওরফে বান্দু আন্দেকর পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হাজির হলেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং মুখ কাপড়ে ঢাকা ছিল। পুলিশের কড়া পাহারায় তাঁকে নির্বাচন দপ্তরে আনা হয়। একজন নির্দল প্রার্থী হিসেবেই তিনি মনোনয়ন জমা দেন বলে জানা গেছে। এই দৃশ্য ঘিরে নির্বাচন দপ্তর চত্বরে কৌতূহল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে কুখ্যাত গ্যাংস্টার বান্দু আন্দেকর ইয়েরওয়াদা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বিচারাধীন বন্দি। আয়ুষ কোমকর খুনের মামলায় প্রধান অভিযুক্ত বান্দু আন্দেকরকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জেল থেকে বের করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়। শুধু বান্দু আন্দেকর নন, তাঁর পরিবারের আরও দুই সদস্য বৌদি লক্ষ্মী আন্দেকর এবং পুত্রবধূ সোনালি আন্দেকরও মনোনয়ন জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরাও একই খুনের মামলায় অভিযুক্ত বলে খবর। তবে নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রে একাধিক ত্রুটি থাকায় তা গ্রহণ করা হয়নি। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশোধিত ও সম্পূর্ণ নথি জমা দিলে তবেই মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হবে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গুরুতর ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত এবং বিচারাধীন বন্দিরা কীভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তিকে নির্বাচনে লড়াই করতে নিষেধ করা যায় না, কিন্তু বাস্তবে এমন ঘটনা জনমানসে নৈতিকতা ও রাজনীতির মান নিয়ে বিতর্ক উসকে দিচ্ছে।
আগামী জানুয়ারিতে পুণে পুরসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগেই এই মনোনয়ন পর্ব ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, তা নির্বাচনী পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
