ওঙ্কার ডেস্ক : ফের ছাত্র বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিচ্ছে বাংলাদেশে ! ঢাকার শাহবাগ মোড়ে দু দিন ধরে চলা ছাত্র অবরোধের ভিতর থেকে উঠে আসছে সেই একই উচ্চারণ- বৈষম্য বিরোধী শ্লোগান। ফলে বছরখানেক আগে ছাত্রবিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশের গন-অভ্যূত্থানের ছায়া ফের গাড় হচ্ছে জনমানসে। যাকে ভিত্তি করে হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এল ইউনুস সরকার, বছর ঘুরতে না ঘুরতে আবার সেই একই পটভূমি মাথাচাড়া দিচ্ছে বাংলাদেশের বুকে ?
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সহ অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তিন দফা দাবিতে লাগাতার অবোরোধ চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকার শাহবাগ মোড়ে। বিক্ষোভকারী ছাত্ররা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার দিকে এগানোর চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং জলকামান ব্যবহার করে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো জানিয়েছে, এরপর পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ শুরু হয়, যার ফলে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্ব ঘোষিত “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগের প্রধান সড়ক দখল করে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি খালিদ মনসুরের মতে, শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করে চৌরাস্তা দখল করে। তিনি আরও বলেন, শাহবাগ এলাকায় যানবাহন চলাচল কয়েক ঘন্টা বন্ধ ছিল, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং জনসাধারণের অসুবিধা হয়।
শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দিতে থাকে- “ছাগল দিয়ে চাষ করা যাবে না, এটা হবে না”, “যোগ্যতা, অথবা কোটা, যোগ্যতা, যোগ্যতা”, এবং “আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের কোনও স্থান নেই”, ইত্যাদি। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশব্যাপী সংহতির আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে তাঁরা শাহবাগে বিক্ষোভে যোগ দেন।
তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের তাদের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার শব্দটি ব্যবহার করতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নবম শ্রেণীতে পদোন্নতি না দেওয়া এবং স্নাতক ইঞ্জিনিয়ারদের দশম শ্রেণীর চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া। এই তিন দফা দাবিতে মঙ্গলবার থেকে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ শুরু করে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এ রিজওয়ান নামে একজন প্রতিবাদী শিক্ষার্থী জানিয়েছে, “আমরা তিনটি দাবি পেশ করেছি। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা পূরণ না করায়, আজ আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি”। বস্তুত ছাত্র আন্দোলনের পথ ধরে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এলেও এর মধ্যেই বাংলাদেশ অসংখ্য প্রতিবাদ আন্দোলন এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
