ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আসা নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এখনও হয়নি। বিশ্বকর্মা পূজোর আগে কলকাতায় পৌঁছনোর কথা থাকলেও এবার দুই দিন বিলম্বিত হল পদ্মার ইলিশের আগমন। নির্ধারিত সময়ে সীমান্ত পার হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও পূজোর ছুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে আমদানিকারী ও ইলিশপ্রেমীদের হতাশা আরও কিছুটা বাড়ল। তবে আশা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে প্রথম চালান কলকাতায় ঢুকবে।
বাংলাদেশ সরকার এবছর বিশেষ অনুমতিতে ভারতে ১,২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দিয়েছে। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কারণ এই সময়ে কলকাতার বাজারে ইলিশের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। রফতানির জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরা আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকর্মা পূজোর কারণে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ট্রাক পারাপারে জটিলতা তৈরি হওয়ায় রফতানির কাজ আটকে যায়। ফলে মাছ এসে পৌঁছতে দেরি হচ্ছে।
আমদানিকারক সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কয়েকটি ট্রাক সীমান্তে অপেক্ষায় রয়েছে। পূজো শেষ হতেই সেগুলি ছাড়া হবে। বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ ইলিশ কলকাতার পাইকারি বাজারে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শহরের বাজারে সপ্তাহের শেষের দিকে ইলিশের দেখা মিলতে পারে। তবে প্রথম দিকে সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম চড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
বাংলাদেশে ইলিশের জোগান আগের মতো নেই। পদ্মা ও মেঘনা নদীতে বড় মাপের ইলিশ কম ধরা পড়ছে। ফলে নির্ধারিত ১,২০০ মেট্রিক টন মাছ সম্পূর্ণ রফতানি হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ সরকার রফতানির ক্ষেত্রে প্রতি কেজির জন্য ন্যূনতম দাম বেঁধে দিয়েছে, যা আগের থেকে কিছুটা বেশি। ফলে কলকাতার বাজারে খুচরা দামে প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ীদের মতে, চালান পৌঁছলেই দাম কিছুটা কমতে পারে, তবে বড় সাইজের ইলিশের জন্য ক্রেতাদের পকেট ঢেলেই খরচ করতে হবে। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা আশায় বুক বাঁধছেন, দুর্গাপুজোর আগে অন্তত একবেলা আসল পদ্মার ইলিশের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
