দেলোয়ার হোসেন কয়েছ, সাধারণ সম্পাদক : ফ্রান্স আওয়ামী লীগ
রাজনৈতিক নেতা শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শ, একটি দৃষ্টিভঙ্গি, একটি আন্দোলনের প্রতীক। সমাজ পরিবর্তনে, জনকল্যাণে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতাদের ভূমিকা অপরিসীম। দলের ভিতরে অন্যায় অবিচার বিরুদ্ধেও কথা বলতে হবে, আবার মতবিরোধ থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। কেউ জননেতা হিসেবে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেন, আবার কেউ থাকেন তীব্র সমালোচনার মুখে, আমাদের দেশকে রক্ষা করার জন্য জনগণের বিশ্বাস অর্জন করার জন্য কাজ করতে হবে। একজন যোগ্য নেতা কখনো নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় না, বরং জনগণের কল্যাণকেই নিজের লক্ষ্য হিসেবে দেখে। সৎ নেতা হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সত্যের পথ থেকে কখনো সরে আসেন না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস রাখেন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়েন। সৎ নেতা কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেন না, বরং কঠিন সত্য বলার সাহস রাখেন। অন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকেন।
তাই নেতৃত্ব মানে অন্যদের উপর কর্তৃত্ব ফলানো নয়। বরং তাদের উদ্বুদ্ধ করা এবং একসঙ্গে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই নেতার মূল লক্ষ্য থাকতে হবে। যে মানুষ জীবনে ত্যাগ করতে পারে এবং জানে, জীবনে যে সাফল্য লাভ করবে তা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। তাই বলা যায় যে ত্যাগই হল জীবনের অন্যতম এক মহান ব্রত। আমাদের এখন কর্মীদের প্রতি প্রেম আন্তরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দিতে হবে খোঁজ খবর রাখতে হবে এবং তাদেরকে উৎসাহ উদ্দীপনা দিতে হবে পরিবারের মতন ভাবতে হবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম। আমাদের মাঝে অতীতে অনেক ভুল ভ্রান্তি ছিল মান-অভিমান সবকিছু ভুলে গিয়ে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে রাজপথে নয় জনতার কাছে ফিরে আসতে হবে। দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করতে হবে এবং প্রতিদিন তাদের খোঁজ খবর নিতে হবে তাদের পাশে থাকতে হবে, তাহলেই দ্রুত দল সুসংগঠিত হবে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলন অনেক গতিবেগ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষ সমাজ মাধ্যমেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের মনোভাব তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাই সামাজিক মাধ্যমও জনগণকে জাগ্রত করার অন্যতম ক্ষেত্র এখন। আমাদের আন্দোলনকে সফল করার জন্য সামাজিক মাধ্যমকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, আমাদের এই দেশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে স্বাধীন হয়েছে। মানুষ সাহসীদের নেতা বানায়। তাই সাহস করেই মানুষের অধিকারের কথা বলতে হয়। তাদের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তবেই না সেই ব্যক্তি নেতা হয়ে উঠবেন। বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবেশ পরিস্থিতির উপর পর্যবেক্ষণ রাখতে হবে কোথায় কী হচ্ছে এবং জনগণকে জানানোর জন্য সমাজ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করতে হবে। জনগণের মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, জনগণের অন্য বস্ত্র বাসস্থান নিশ্চিত করার অধিকার, সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে দেশ বাঁচাও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিগত শাসনামলে দেশের মানুষ কেমন ছিল আর বর্তমানে কেমন আছে এই বিষয়টা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে বহু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তা সর্বস্তরের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আর বিগত ১৪ মাসে ফ্যাসিস্ট ও অগণতান্ত্রিক ইউনুস সরকার বাংলাদেশে কি করেছে তা বোঝাতে হবে সাধারণ মানুষকে। এখনই যদি আমরা দেশের মানুষকে ঘুম থেকে না জাগাই তাহলে বাংলাদেশ শীঘ্রই পরাধীন হয়ে যাবে। বর্তমানে যে ভাবে বাংলাদেশ চলছে তাতে আমরা অচিরেই শরণার্থী হয়ে যাব। এই গভীর সংকট অন্ধকার থেকে মানুষকে মুক্ত করার জন্য আমাদের প্রাণপ্রিয় মা ও মাটিকে রক্ষা করার জন্য স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হবে। মনে রাখবেন, যদি আপনি ভয় পান তাহলে হেরে যাবেন আর যদি আপনি সহস নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যান নিশ্চয়ই বিজয়ী হবেন। সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক ভালবাসা পাবেন।
