নয়ন বিশ্বাস রকি
২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিল উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে জাতীয় নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকার কথা এখন অনেকেই উপলব্ধি করছেন। জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। মানুষ রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারত। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল—প্রতিটি মেগা প্রজেক্ট ছিল উন্নয়নের প্রতীক। দারিদ্র্যের হার কমে ১৮.৭% এ নেমেছিল। মানুষের জীবনযাত্রা. বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তায় সাধারণ মানুষের নাগাল ছিল। “অভাব ছিল না, শান্তিতে বসবাসের সুযোগ ছিল।”
কিন্তু ২০২৪ সালে “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” এর নামে শুরু হল এক পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ। তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহলের পরামর্শে দেশকে অস্থিরতায় ঠেলে দেওয়া হল।
ফলাফল :
- শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে
- জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে
- বিনিয়োগ স্থবির, অর্থনীতি বিপর্যস্ত
- সমাজে বিভাজন, হতাশা ও অন্ধকার
আজ সাধারণ মানুষ বলছে, “আমরা আগেই ভালো ছিলাম। আমাদের ভুল বোঝানো হয়েছে। আমরা প্রতারিত হয়েছি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোকে রাষ্ট্র ও তরুণের দায়িত্ব
রাষ্ট্র কোনো পরীক্ষাগার নয় যে ইচ্ছেমতো ভেঙে আবার গড়া যায়। রাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। থমাস হবস লিখেছিলেন, “During the time men live without a common power to keep them all in awe, they are in that condition which is called war; of every one against every one. রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ভেঙে দিলে সমাজে সবার বিরুদ্ধে সবার যুদ্ধ শুরু হয়। গত দুই বছরে আমরা সেটাই দেখেছি।
এডমন্ড বার্কের কথায়, A state without the means of some change is without the means of its conservation. পরিবর্তন দরকার, কিন্তু ধ্বংসের নাম পরিবর্তন নয়। সংস্কার করতে হয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে, ভেঙে ফেলে নয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়, এই স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়।”
আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছিল সেই স্বাধীনতার অর্থবহ রূপ দেওয়া—উন্নয়ন, শান্তি, মর্যাদা।
তথাকথিত “বৈষম্য বিরোধী” আন্দোলনের প্রতারণা
এই আন্দোলনের নাম ছিল সুন্দর, কাজ ছিল ধ্বংসাত্মক। ছাত্রসমাজকে ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে অচল করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি ঢুকিয়ে প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। “ডিজিটাল বাংলাদেশ” এর স্বপ্নকে পিছিয়ে দিয়ে দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এটি ছিল জনগণের সাথে প্রতারণা। আজ মানুষ বুঝেছে—এই পথ গন্তব্যহীন, এই পথ ধ্বংসের।
আগামীর করণীয় তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব
তরুণ প্রজন্মকে এখন দায়িত্ব নিতে হবে বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফেরানোর।
সত্য উপলব্ধি করা
মিথ্যা প্রোপাগান্ডা থেকে বেরিয়ে বাস্তবতা দেখতে হবে। উন্নয়ন বনাম ধ্বংস—এই দুইয়ের পার্থক্য বুঝতে হবে।
রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানো
আবেগ নয়, দায়িত্বশীল রাজনীতিতে যুক্ত হতে হবে। রাষ্ট্রবিরোধী নৈরাজ্য নয়, গঠনমূলক সমালোচনা ও অংশগ্রহণই তরুণের কাজ।
আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ধারায় ফেরা
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ধারা ছিল, সেটাই বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন। “ভিশন ২০৪১” ও “স্মার্ট বাংলাদেশ” ছিল আগামীর রোডম্যাপ।
ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া
দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহলের চক্রান্ত সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শেষ কথা
অটো ভন বিসমার্ক বলেছিলেন, “Politics is not a science… it is the art of the possible.”
সম্ভবের রাজনীতি হল—যা দেশকে এগিয়ে নেয়, যা মানুষের জীবন বদলায়। আওয়ামী লীগের শাসনামল সেটাই প্রমাণ করেছে।আজ সময় এসেছে ভুল স্বীকার করে আবার সঠিক পথে ফেরার। “আমরা ভুল করেছি”—এই উপলব্ধিই হোক নতুন শুর ভিত্তি। বাংলাদেশকে আবার শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ রাষ্ট্র বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব।