ওঙ্কার ডেস্ক: তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মঙ্গলবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকেই এলাকায় জোরদার হয় প্রশাসনিক তৎপরতা। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুরসভা, পুলিশ ও দমকলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। সঙ্গে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নিয়ে আসা হয় বুলডোজার। লক্ষ্য ছিল, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এবং তার ভিতরে গড়ে ওঠা অবৈধ কারখানাগুলির বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পাঁচতলা ওই ভবনের একাধিক তলায় বেআইনিভাবে কারখানা চালানো হচ্ছিল। সেখানে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা হত এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের কাজ করানো হত। দমকলের ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানাগুলি চলছিল বলে অভিযোগ। আবাসিক এলাকার মধ্যে এভাবে বিপজ্জনক শিল্প ইউনিট পরিচালনা করায় স্থানীয়দের জীবনও বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে বেআইনি অংশগুলি চিহ্নিত করা হয়। এরপর বুলডোজার দিয়ে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়। ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এবং নিরাপত্তাহীন কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও বিপর্যয় না ঘটে। প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু এই ভবন নয়, আশপাশের এলাকায়ও বেআইনি কারখানা ও বিপজ্জনক নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
রাজ্যে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনও সুযোগ আর দেওয়া হবে না। বেআইনি কারখানা, অনুমতিহীন ব্যবসা এবং নিরাপত্তাহীন ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। তিলজলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে অবৈধ শিল্প ইউনিটগুলির উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।