ওঙ্কার ডেস্ক : বাংলাদেশের ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে গনধর্ষণের শিকার হলেন ৪০ বছর বয়সী এক হিন্দু মহিলা। অভিযোগ,গণধর্ষণের পর নিগৃহিতাকে একটি গাছে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, পুলিশের কাছে নিগৃহিতা অভিযোগে জানিয়েছে, আড়াই বছর আগে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহিন এবং তার ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকায় তিন ডেসিমিল জমি এবং একটি দোতলা বাড়ি কিনেছিলেন। এরপর, শাহিন তাঁকে অশ্লীল প্রস্তাব দিতে শুরু করে। তিনি ওই প্রস্তাবে অস্বীকৃতি হওয়ায় তাঁকে হয়রানি করতে থাকে ওই ব্যক্তি।
শনিবার সন্ধ্যায়, যখন ওই বিধবার গ্রামের দুই আত্মীয় বেড়াতে আসেন, তখন শাহিন এবং তার সহযোগী হাসান সেখানে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। এরপর তারা তাঁর কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিতে নারাজ হওয়ায় তারা ওই বিধবা মহিলার আত্মীয়দের উপর হামলা করে বলে অভিযোগ। মহিলাটি চিৎকার শুরু করলে তারা তাঁকে একটি গাছে বেঁধে তাঁর চুল কেটে, ঘটনাটি রেকর্ড করে এবং ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়।
এই নির্যাতনের ফলে সঞ্জা হারান মহিলা। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মহিলা প্রথমে ডাক্তারদের বলেননি যে ঘটনাটি ঘটেছে। পরে, ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে তার উপর নির্যাতন করা হয়েছে।
এরপর মহিলাটি কালীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে তিনি শাহীন এবং হাসানের নাম উল্লেখ করেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমরা ভুক্তভোগীকে থানায় ডেকে তাঁর অভিযোগ রেকর্ড করেছি। তদন্তের পর, পুলিশ সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেবে।”
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায় খোকন চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে আক্রমণ ও পুড়িয়ে মারার পর যেদিন তিনি মারা যান, সেদিনই এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ২৪ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের কালিমোহর ইউনিয়নে আরেক হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডলকে জনতা পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে কিন্তু দাবি করেছে যে মণ্ডল একজন চাঁদাবাজ ছিলেন এবং তার হত্যার কোনও সাম্প্রদায়িক কারণ ছিল না। ১৮ ডিসেম্বর, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাসকেও জনতা পিটিয়ে হত্যা করে। তার দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের অধীনে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে “নিরন্তর শত্রুতা” সম্পর্কে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
