বিশ্বজিৎ ঘোষ
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যে নানান ভোটরঙ্গ সামনে আসছে। তাঁদের মধ্যে অবাক করার মতো উদাহরণ- জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার তুষার। যাঁর কোনো প্রকাশিত বই নেই, অথচ নির্বাচনী হলফনামায় দেখিয়েছেন, লেখালেখি থেকে আয় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। খবর চাউর হতেই ঢি ঢি পড়েছে বাংলাদেশে। কোনো বই নেই অথচ লেখালেখি করে এই আয়ে অবাক হয়েছেন সাধারণ জনগন।
এমনিতেই অধ্যাপক মোঃ ইউনুসের উপদেষ্টা পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার উপর প্রশ্ন উঠেছে ‘অবৈধ’ নির্বাচনী তফসিলের বৈধতা নিয়েও। বাংলাদেশের মানুষ বলছে, যে ভাবে ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে তা না করে ভাগ বাঁটোয়ারা করে নিলেই হয়। এই ভাবে নির্বাচন করে বাংলাদেশের মানুষের টাকা খরচ করে কি লাভ ? জনগণের প্রশ্ন, দেশের অধিকাংশ মানুষকে বাদ দিয়ে কিসের নির্বাচন, ওই নির্বাচন কি আদৌ অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে ? এমন একটি অবৈধ নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছে তারা হাতে পিস্তল নিয়ে মাঠে ঘোরাঘুরি করছে। ডিসি অফিস থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জামাত ইসলামের এক নেতা গায়ের জোরে বের করে দিয়েছে। এই কী তাহলে অধ্যাপক মোঃ ইউনূসের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম নির্বাচন। যে নির্বাচনে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাবে না। ১৯৭১ সালে জামাত ইসলাম বাঙালি জাতির উপর গণহত্যা চালিয়েছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে যারা গলা জড়াজড়ি করে ছিল তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে, অথচ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সহ ১৪ দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্র জন্ম নিয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত দিয়েছে তারাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কী আজব দেশ।
এক নজরে তুষার
অদ্ভুত পেশা ও আয় : পেশা হিসেবে ‘লেখক’ উল্লেখ করে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, অথচ বাজারে তার কোনো প্রকাশিত বই নেই।
সম্পদহীন প্রার্থী : হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের কিছুই নেই; নেই বাড়ি, গাড়ি কিংবা এক শতাংশ জমিও।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নগদ অর্থ : এইচএসসি পাস এই প্রার্থীর হাতে নগদ আছে ৩ লাখ টাকা, আর আয়কর রিটার্নে সম্পদ দেখানো হয়েছে মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
মামলা ও অবস্থান : তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই; তিনি নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী যারা হয়েছেন প্রত্যেকেরই হলফনামা আর হিসাবের কোন সঠিক মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ছাত্রাবস্থা যদি এদের এই অর্থ সম্পদ হয়,তাহলে ভোটে জিতলে কি হবে ? তারা বিভিন্ন জায়গায় হুমকি দিচ্ছে ভোট না দিলে এলাকায় থাকতে পারবে না।
নরসিংদী প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হয়ে লড়ছেন মো. গোলাম সারোয়ার তুষার। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি নিজের পেশা হিসেবে ‘লেখক’ উল্লেখ করেছেন। তবে অনুসন্ধানে তার কোনো প্রকাশিত বইয়ের হদিস মেলেনি। অথচ বই বা প্রকাশনা না থাকলেও অদ্ভুতভাবে এই ‘লেখালেখি’ খাত থেকেই তিনি বছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন।
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হলেও গোলাম সারোয়ার তুষারের নিজস্ব কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই। তার বাৎসরিক আয়ের পুরোটাই আসে কথিত লেখালেখি থেকে। একজন লেখক হিসেবে তিনি পরিচিতি দিলেও স্থানীয় ভোটার বা সাহিত্য মহলে তার কোনো বইয়ের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়নি। বই ছাড়াই লেখালেখি খাত থেকে এই আয়ের বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
হলফনামার আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, তুষারের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ টাকা। এছাড়া আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর বাইরে তার নামে কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি, অ্যাপার্টমেন্ট, দালান, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, স্বর্ণালঙ্কার কিংবা আসবাবপত্রের অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ, একজন এমপি প্রার্থীর যে ন্যূনতম স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকার কথা, তার কিছুই উল্লেখ করেননি তিনি।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে তিনি নিজেকে এইচএসসি পাস বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ইতিবাচক দিক হলো, অন্য অনেক প্রার্থীর মতো তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই; তিনি নিজেকে মামলাহীন দাবি করেছেন।
সম্পদহীন এবং দৃশ্যমান কোনো সাহিত্যকর্ম ছাড়াই নিজেকে ‘লেখক’ দাবি করে নির্বাচনের মাঠে নামা এনসিপির এই নেতাকে নিয়ে পলাশ নির্বাচনী এলাকায় বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। ভোটাররা প্রশ্ন তুলছেন, আয়ের উৎস যেখানে অস্পষ্ট এবং সম্পদের ভিত্তি নেই, সেখানে তিনি কীভাবে সংসদীয় আসনের দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন দেখছেন ?
লেখক সাবেক ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা
